ইসিতে ভোটের তোড়জোড়
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১০:২৫ অপরাহ্ন
অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে ‘মক ভোটিং’ তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে: সিইসি

জালালাবাদ রিপোর্ট : এক দিনে দুই ভোটের তোড়জোড় চলছে নির্বাচন কমিশনে। নানা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল হয়েছে ভোটের মহড়া ‘মক ভোটিং’।ইসি বলছে, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত মক ভোটিংয়ে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
মক ভোটিং শেষে প্রিজাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ মক ভোটিং এ ৫০০ ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ ৩৫২ জন ভোট দিয়েছেন।এ কর্মকর্তা জানান, চার ভোট কক্ষে মক ভোটিং নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি ভোট দিতে কত সময় লেগেছে তা নির্ধারণ করা যাবে না।এমন প্রস্তুতির মাঝে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেছেন, তফসিল হোপফুলিআমরা যেটা আশা করছি দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে ডিসেম্বরের। শনিবার ‘মক ভোটিং’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
যে কারণে ভোটের মহড়া :
একটা পোলিং সেন্টারে কী ধরনের আবহ থাকা দরকার, কী ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার, ভোটাররা কী কী রকম হবে, পোলিং অফিসার কিরকম করে বসবে, প্রিজাইডিং অফিসাররা কিরকম করে বসবে, সাংবাদিকদের ভূমিকা- যাবতীয় বিষয়াদি প্র্যাক্টিক্যাল ডেমনেস্ট্রেশনের মাধ্যমে দেখাতেই ভোটের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শেরে বাংলা নগর বালিকা বিদ্যালয়ের চারটি বুথে ভোটগ্রহণ চলে।
এসময় দেখা যায় মক ভোটিং এক্সারসাইজের মাধ্যমে ভোটাররা এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে পোলিং সেন্টারে প্রবেশে করেছে। তারপরে ভোটার স্লিপটা নিয়ে দেখাচ্ছে, পোলিং অফিসার ডাক দিচ্ছে, অ্যাসিস্টেন্ট প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট পেপার দিচ্ছে। আবার মার্কিং সিল নিয়ে গোপন কক্ষে ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলছে।
এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এই এক্সারসাইজটা অনেকেই জানে না। কিন্তু বিশেষ করে আমাদের যারা নতুন ভোটার, প্রথমবারের মত ভোট দেবেন; তারা জীবনে এই ভোট দেখেই নাই। গত ১৫ বছরের মধ্যে যারা ভোটার হয়েছে, তারা দেখেইনি, প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতা নাই।
এখন আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে একটা রেফারেন্ডম, গণভোট একটা এসছে। এই গণভোট একসাথে করতে হবে আমাদের। তো গণভোট যদি একসাথে করতে হয়, তাহলে আমাদের টাইম ম্যানেজমেন্টের একটা বিষয় আছে। এই আজকের এই এসেসমেন্টের ভিত্তিতে আমরা ঠিক করব। বিদ্যমান ৪২ হাজার ৫০০ এর বেশি ভোটকেন্দ্র আমাদের জন্য পর্যাপ্ত কি না, নাকি ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে? ভোটকক্ষ, লোকবল বাড়ানোসহ কী ধরনের অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হতে পারে, এই প্র্যাকটিক্যাল অ্যাসেসমেন্টটা আজকে আমরা করতে যাচ্ছি। ভোটের মহড়ার অভিজ্ঞতা থেকে ইসি করণীয় ঠিক করবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের কোনো বাধা নয় :
ভোটকক্ষে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে সিইসি নাসির বলেন, কেন সাংবাদিকরা বলেন- আমাদেরকে ভেতরে থাকতে দিতে হবে। আপনারা দেখলেন-একটা রুমের মধ্যে এজেন্টরা আছে, পোলিং অফিসার আছে, প্রিজাইডিং অফিসার আছেন, ভোটাররা ঢুকছেন। এখন সাংবাদিক আবার অবজার্ভাররা আসবে। দেশি-বিদেশি অবজারভাররা আসবে।
এখন সাংবাদিক ভাইয়েরা যদি ঢুকে এখন ধাক্কাধাক্কি করে-অনেকক্ষণ যদি দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হবে। পোলিং সেন্টারের ভেতরে এইটা অ্যাভয়েড করার জন্য আমরা বলছি যে, একটু আপনারা একটু নিজেদের বিবেক অ্যাপ্লাই করে নির্দিষ্ট সময়টার মধ্যে আপনারা কাজটা সেরে বেরিয়ে যাবেন।
একই দিনে নির্বাচন ও ইসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উপলক্ষে কমিশনের পক্ষ থেকে শনিবার একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সনদ ও সংস্কারের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এই দুটি বিকল্পের মধ্যে একটিকে বেছে নেবেন।
গণভোটের প্রশ্নে বলা হবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?” (হ্যাঁ/না)।
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুমোদন দরকার হইবে।
(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।
আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দেখছে ইসি :
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাতে তো ঘুমাতে পারেননি। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন, আপনি শান্তিতে আসছেন। এ পর্যন্ত আপনার ক্যামেরা কি ছিনতাই করেছে? করেনি তো। অর্ডার সিচুয়েশন ইমপুভ করে গেছে, অনেক ইমপ্রুভ করেছে। আমরা তো কন্টিনিউয়াসলি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে আর কোর্ডিনেটিং…সবাই ট্রেনিং করছে।
ইনশাআল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ওয়াজ নেভার পারফেক্ট। বলে তো লাভ নেই; চুরি, ছিনতাই, মারামারি এগুলা কি আগে ছিল না? আগেও তো ছিল, সবসময় তো ছিল। বাট এগুলো হবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওভারল এনভরনমেন্ট ফর পোলিং এটা আমরা এনশিউর করব, ইনশাল্লাহ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।





