ভেঙেছে সিন্ডিকেট কমছে চিনির দাম
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৭:২৯:৪২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশের চিনির বাজারে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে নানামুখী চাপে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এতে ভেঙে যায় সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটহীন হয়ে পড়ার সুফল পড়ছে চিনির বাজারে। লাগাতার কমছে চিনির দাম।
তথ্য বলছে, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তা কমে হয় প্রতি মণ ৪ হাজার ২৪০ টাকা। চলতি বছরের ৮ জুলাই পাইকারিতে প্রতি মণ চিনির দাম দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। গত ২৭ নভেম্বর পাইকারিতে চিনির দাম ছিল ৩ হাজার ২৪৫ টাকা। প্রতি মণে কমেছে এক হাজার ১৯৫ টাকা, যা কেজিতে কমেছে ৩০ টাকার মতো। যার প্রভাব চিনির খুচরা বাজারেও পড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি খুচরায় চিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। ঠিক ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একই চিনি বিক্রি হতো প্রতি কেজি ১৩০-১৩৫ টাকা। এতে পাইকারিতে কেজিতে গড়ে ৩০ টাকা এবং খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা কমেছে।
জানা গেছে, দেশে বছরে কমবেশি ২০ থেকে ২২ লাখ টন পরিশোধিত চিনির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় চিনিকলগুলো থেকে আসে ৩০ হাজার টনের মতো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় ১৫ চিনিকলে ৩০ হাজার ৮০ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। অবশিষ্ট চিনি আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়।
দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ৯৮ শতাংশের বেশি চিনি আমদানি করতে হয়। দেশে ব্যক্তিখাতের পাঁচ শিল্প গ্রুপ সিটি, মেঘনা, এস আলম, আবদুল মোনেম লিমিটেড ও দেশবন্ধু সুগার মিল অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। পরে নিজেদের মিলে পরিশোধন করে এসব চিনি বাজারজাত করে। এর মধ্যে দেশবন্ধু সুগার মিলে নানান জটিলতায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বেকায়দায় পড়ে এস আলম গ্রুপ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬০ টন চিনি আমদানি হয়। এরমধ্যে ‘র’ চিনি রয়েছে ৯ লাখ ৩ হাজার ৭২ টন এবং পরিশোধিত সাদা চিনি ৮২ হাজার ৬৮৮ টন। ‘র’ চিনির মধ্যে আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ৯ হাজার ৬৬৯ টন, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ৩ লাখ ১৬ হাজার ২৩৫ টন, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড ৫ হাজার ৫০০ টন, মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ৫ লাখ ৩ হাজার ৬২৩ টন ও এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ৬৭ হাজার ৬৩৮ টন আমদানি করে।
‘র’ চিনির পুরোটাই আমদানি হয় ব্রাজিল থেকে। অন্যদিকে সরকারের অনুমোদন নিয়ে গত অর্থবছর রিফাইন্ড সাদা চিনি আমদানি করে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। তাছাড়া কারখানার কাঁচামাল হিসেবেও রিফাইন্ড চিনি আমদানি হয়। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে (১ জুলাই থেকে ২৫ নভেম্বর) ‘র’ ও রিফাইন্ড মিলে ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৫১১ টন চিনি আমদানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ লাখ ৫ হাজার ৭৫১ টন বেশি। ‘র’ চিনির মধ্যে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ৫ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৩ টন, আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৫১ টন, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৯৬ টন এবং এস আলম সুগার রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ৪৬ হাজার ১১৪ টন আমদানি করে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এটা সত্যি যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানান ধরনের সিন্ডিকেট রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের পর থেকে চিনির বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। যার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছে। গত দেড় বছরে চিনির দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এখন যারা চিনির ব্যবসা করছেন তারা ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন। তিনি বলেন, চিনির দাম কমে যাওয়ার মাধ্যমে একটি বিষয় পরিষ্কার ব্যবসায়ীরা চাইলে সব ধরনের পণ্যের দাম কমানো সম্ভব। চিনি বাদেও ভোজ্যতেল, চাল, ডাল, পেঁয়াজের সিন্ডিকেটও ভেঙে দেওয়া উচিত। এতে সাধারণ ভোক্তারাই উপকৃত হবেন।





