সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটির সত্যতা পেয়েও ব্যবস্থা নিতে অনিহা শিক্ষা অফিসের
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৪৭:০০ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেন। এমনকি বেলা ৩টার আগেই বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে চলে যান শিক্ষকরা। এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শুধু সতর্ক করার সুপারিশ করেই দায় সারলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিদুল ইসলাম। এমন দায়সারা শাস্তির সুপারিশে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় অভিযোগের পর গত ৯ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় অভিযুক্ত শিক্ষককে। নোটিশে শিক্ষা অফিস উল্লেখ করে গত ৭ অক্টোবর বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানীয় অভিভাবক বিকাল ৩.১৫ মিনিটে ফোনে অবগত করলে নিশ্চিত হওয়া যায় আপনারা সবাই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করার কারণে বিদ্যালয় পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টিসহ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে। এহেন আচরন সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা-২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা-আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী সুষ্পষ্ট অসদাচরনের শামীল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে এর আগেও আপনাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়াও নোটিশে বলা হয় এই অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হবে না, তা পত্র প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে হবে।
পরে ১৩ অক্টোবর প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা লিখিত জবাব দেন। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর ২১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিদুল ইসলাম। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন অভিযুক্তদের জবাবে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাই মহোদয় কর্তৃক ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা যেতে পারে।
এদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শাস্তি হিসেবে শুধু সতর্কবার্তা দেওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন এমন সুপারিশের কারণে শিক্ষকরা আরো আস্কারা পাবেন।অভিভাবক কামাল মিয়া বলেন, এই বিদ্যালয়ে প্রায়ই দেখা যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধু সতর্ক করে দেওয়া এটা কেমন শাস্তি বুঝে আসে না। এই সুপারিশের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব সিদ্দিকী আবুল আলা বলেন, যেহেতু আগেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল তাই পুনরায় শুধুমাত্র সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্বাস করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরোও কঠোরভাবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন।
কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, একটি বিদ্যালয়ের সফলতা নির্ভর করে শিক্ষকদের পরিশ্রম নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার ওপর। দায়িত্বশীল অফিসাররা যদি দায়সারা কাজ করেন তাহলে শিক্ষার মান কি করে উন্নত হবে? নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগের মতো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধু সতর্কবার্তায় বিষয়টি শেষ করে দেওয়া দুঃখজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মশৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুল হাসান বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলবো।





