খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা, ডা. জাহিদ ছাড়া কারো বক্তব্য ব্যবহার না করার আহবান
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১১:৫৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে কেমন তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। এ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যের জন্য দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে এসব প্রশ্নে অবতারণা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য ছাড়া কেউ কোনো সূত্র বা কারও বক্তব্য ব্যবহার না করার জন্য দলের মিডিয়া সেল থেকে বলা হয়েছে। এরআগে সোমবার দুপুর থেকে খালেদা জিয়া লাইফ সাপোর্টে বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানের বরাতে সংবাদ প্রকাশ হয়।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ম্যডামকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, এটা সঠিক নয়। কেউ এতে বিভ্রান্ত হবেন না।’
দলের চেয়ারপারসনের আশু আরোগ্য কামনায় মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আগের মতোই ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। দয়া করে যে যাই বলুক এ ব্যাপারে কারও কথা কেউ বিভান্ত হবেন না।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক ম্যাডামের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। তাদের থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, তার চিকিৎসা চলছে, এটাই আপগ্রেড। আপনারা সবাই দোয়া করুন যেন, আল্লাহ যেন তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন সুস্থভাবে।’ বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমকে যথা সময়ে অবহিত করা হবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র বা কারও বক্তব্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এই বার্তায় বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য ছাড়া কেউ কোনো সূত্র বা কারও বক্তব্য ব্যবহার করবেন না। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।
এরআগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান জানান খালেদা জিয়া ‘খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ চলে গেছেন। রোববার রাত থেকে খালেদা জিয়া এ অবস্থায় গেছেন বলে জানান তিনি। সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিং করে এ কথা জানান আহমেদ আজম খান।
তিনি বলেন, রোববার রাত থেকে ম্যাডাম খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে চলে গেছেন। ফাইট করছেন তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসার জন্য। এখনো অবস্থা ক্রিটিক্যাল আছে। বলবার মতো কোনো কন্ডিশনে এখনো তিনি আসেন নাই। সারা জাতির কাছে দোয়া চাওয়া ছাড়া আর কিছু বলা নেই।
বিএনপি নেতা আরও বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। সিসিউ থেকে আইসিউ, এরপরে ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্ট – যাই বলেন। আমি এগুলোর বাইরে বলব যে, ম্যাডাম খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের চিকিৎসকেরা যুক্ত ছিলেন। এখন চীনের চিকিৎসকেরাও যুক্ত হয়েছেন বলে জানান আজম খান। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে ক্লান্তিহীনভাবে চেষ্টা করছেন। বাদ বাকি আল্লাহ ভরসা।
এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে শয্যাশায়ী খালেদা জিয়া। তার লিভারজনিত সংকট, কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্টসহ একাধিক শারীরিক জটিলতা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। ২৩ নভেম্বর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’। পরদিন তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই খালেদা জিয়ার।





