ভোটের নিরাপত্তায় বহুমুখি পরিকল্পনা তফসিলের পর কঠোর হওয়ার আভাস
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২৩:৩৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তায় বহুমুখি পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছক প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে নির্বাচন কমিশন।আগামী রোববার তফসিল চুড়ান্ত করবে ইসি। এরপর ছক অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন শুরু করবে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।কমিশন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকার পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ও ‘রিজার্ভ ফোর্স’ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাখা হবে।একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণা হলে প্রথম দিন থেকে আচরণবিধি প্রতিপালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।এ নিয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন; সেখানে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসময় চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ভিডিপি, কোস্টগার্ড, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা/বিভাগের প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইসি স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে-একটা সুষ্ঠ সুন্দর, সার্বিক উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনকে বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা সবাইকে করতে হবে এবং নিজস্ব দায়িত্ব নিজের আওতায় পালন করতে হবে। (ব্যত্যয় হলে) কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ইসির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও সাইবার সিকিউরিটি সেল :
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপতথ্য, গুজব, মিথ্যা রোধে নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে সব বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিদের উচ্চ পযায়ের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থাকবে। ওভারঅল মনিটরিং অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশনেরটা দেখা হবে নির্বাচন কমিশন থেকে। পাশাপাশি আরেকটা সাইবার সিকিউরিটি সেল থাকবে। সাইবার সিকিউরিটি সেল সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো মনিটর করবে। ইউএনডিপির প্ল্যাটফর্ম আছে, সেটা ব্যবহার হবে। ইসির নিজস্ব সক্ষমতা যেটা আছে তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি এবং অন্যান্য যে এজেন্সি- ফ্যাক্ট চেকের ব্যাপারে যেসব সক্ষমতা আছে সেগুলো কোঅর্ডিনেট করবে ইসি।
তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা :
নির্বাচনি এলাকা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রে রাখার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করবে ইসি।ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানে মূলত তিনটা ভাগ রয়েছে। ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানটা হচ্ছে- একটা স্ট্যাটিক, যা কেন্দ্রভিত্তিক। কেন্দ্রে কিছু নিরাপত্তাকর্মী স্ট্যাটিক থাকবেন। এর সঙ্গে বিভিন্ন চেকপোস্টের মাধ্যমে স্ট্যাটিক চেকপোস্ট হতে পারে, মোবাইল চেকপোস্ট হতে পারে। মোবাইল চেকপোস্ট হলে হয়তো এক জায়গায় করা হলো, সেখান থেকে আবার দুই কিলোমিটার দূরে, সেটাও আবার স্ট্যাটিক ইন নেচার।
দ্বিতীয়টি ভ্রাম্যমাণ হিসেবে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইসি সচিবের ভাষায়, মোবাইল কম্পোনেন্ট থাকবে, মোটামুটিভাবে তারা ঘুরে ঘুরে ঘুরে দেখবে। কেন্দ্রগুলোর ভৌগলিক অবস্থানসহ সার্বিক বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট বাহিনী তা ঠিক করবে। আর (তৃতীয়টি) আরেকটা থাকবে সেন্ট্রাল রিজার্ভ।
কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ :
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূজার সময় একটা অ্যাপ ডেভেলপ করেছিল, সেটা ব্যবহার করবে ইসি। সচিব বলেন, সাইবার সিকিউরিটির বিষয়টা নিয়ে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান রয়েছে। সবসময় একটা কন্টিনজেন্সি প্ল্যান রাখার দরকার, যদি দুই-তিনটা জায়গায় ঝামেলা হয় তাহলে কন্টিনজেন্সি প্ল্যানটা কাজে দেবে। মোটামুটি ভাবে কন্টিনজেন্সি প্ল্যানটা থাকতে হবে যেন ব্যাকআপ আসপেক্টটা থাকে, টেকনোলজির ব্যবহার সর্বোত্তম ব্যবহারটা করা যেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় মোবাইল অ্যাক্সেসে সীমাবদ্ধতা, ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি রাখার জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।পোস্টাল ভোটিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
ভোটের নিরাপত্তায় কত সদস্য :
এবারের নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছে। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোটকক্ষ থাকবে।প্রাথমিক সভায় ভোটের আগে-পরে আট দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব আসে এবং ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ লাখের বেশি সদস্য ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সংখ্যাই হবে সাড়ে ৫ লাখের মত। সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বহাল :
বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ভোটে সামরিক বাহিনী থাকছে। তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া আছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পযন্ত, সেটা বহল থাকবে। ইসি বলছে, এটা আরপিও’র সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হবে না। সাংঘর্ষিক হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
ইসি সচিব বলেন, মোতায়েন পরিকল্পনায় সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। রিটার্নিং অফিসারের সাথে তাদের (সামরিক বাহিনী) সমন্বয় করে কেন্দ্রে থাকতে হবে। ‘রিজার্ভ ফোর্স’ হিসেবে থাকবেন নাকি ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে থাকবেন, এটা ওরা ধাপে ধাপে তৈরি করে নেবেন।





