পর্যটনে পিছিয়ে দেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে রয়েছে কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্যমণ্ডিত রাঙামাটি, বান্দরবান, চায়ের দেশ মৌলভীবাজার ও সিলেটসহ দেশজুড়ে অসংখ্য প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন। তবুও বিশ্ব পর্যটন খাতে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বরাবরই পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান অবদান মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি।
বাংলাদেশের জিডিপিতে যেখানে পর্যটন খাত নামমাত্র অবদান রাখছে, সেখানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পর্যটনশিল্পের এখন রমরমা চলছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপসহ অনেক দেশের পর্যটনশিল্পের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। জিডিপিতে পর্যটন খাত মালদ্বীপে ৬০ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩০ শতাংশ, মালয়েশিয়া ১৫-২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৪০-৪৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ১২ শতাংশ ও সিঙ্গাপুর ২০-২৫ শতাংশ অবদান রাখছে। অথচ বাংলাদেশ এখনো সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এক কোটির ওপরে পর্যটক আসলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা ৫ লাখের নিচে। গত বছরের এক জরিপ অনুযায়ী যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। আর থাইল্যান্ডে প্রতি বছর পর্যটক আসে ৪ কোটি।
এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে গত এক বছরে বিদেশি পর্যটক থেকে আয় কমেছে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০২৩ সালে বিদেশি পর্যটকদের কাছে আয় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ২০২৪ সালে ৪৪ কোটি ডলার।
বিশ্বজুড়ে যখন পর্যটন খাত এগিয়ে চলেছে সমৃদ্ধির দিকে, তখন বাংলাদেশের এমন করুণ অবস্থার কারণ হিসেবে ভিসা জটিলতা, আন্তর্জাতিক প্রচারণার অভাব, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর ঘাটতি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এমনকি দেশের রাজনৈতিক অবস্থাকেও দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোয়েব-উর-রহমান বলেন, কোন দেশ থেকে বেশি আসছে, কোন দেশ থেকে কম আসছে ? কারণ কী? সেটা গবেষণা করে বের করে সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো যাবে। অগ্রসর দেশগুলো এই পদ্ধতিতেই সমাধান বের করে।





