ঝুলন্ত অবস্থায় খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব প্রস্তুতি থাকলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তার বিদেশযাত্রার বিষয়টি। বিএনপি চেয়ারপার্সনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কদিন ধরেই আলোচনায়। কখনো তার শারীরিক অবস্থা, আবার কখনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসতে বিলম্ব-এমন নানা কারণ বলা হচ্ছে তার বিদেশযাত্রার প্রশ্নে।
খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়া এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শনিবার বিকেলে আবারও কথা বলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এসময় তিনি খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। তবে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে একান্তই তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর। সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাধান্যের বিষয়।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন এখন যে শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন তাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এটিই চিকিৎসকদের মূল চিন্তার বিষয়।সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আসতে পারেনি। তবে ওই সময় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সে সময় যাওয়া ঠিক হবে না।
জাহিদ হোসেন বলেন, মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্স এখন প্রস্তুত আছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরাও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান জাহিদ হোসেন।খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এর আগেও আরও খারাপ অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তাই এবারও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরবেন, এমনটাই আশা তাঁর।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে জাহিদ হোসেন বলেন, দয়া করে যেটা ফ্যাক্ট, সেটার বাইরে গুজব ছড়িয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করবেন না। অবশ্য তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার একবার গ্রিন সিগনাল দিয়েছিল মেডিকেল বোর্ড। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন জাহিদ হোসেন।
তবে শনিবার তিনি বলছেন, বিমান ভ্রমণের সময় হাই-অলটিটিউডে যে শারীরিক ধকল সহ্য করতে হয় সেদি মানিয়ে নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার শরীর এখনো প্রস্তত কি না চিকিৎসকরা সেটি বিবেচনায় রাখছেন। এদিকে কাতার বা অন্য কোনো দেশ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, কাতার থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না আসাতে তার বিদেশ যাওয়া বিলম্ব হয়েছে। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মূল বিষয় নয়, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পর ওইদিন থেকেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন খালেদা জিয়া। ২৭ নভেম্বর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।এরপর থেকেই তার চিকিৎসায় দেশ ও বিদেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। বাংলাদেশে এসে তার চিকিৎসক টিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন লন্ডন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক।
এমনকি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও।





