দক্ষতায় ঘাটতি, কমছে বাংলাদেশি নারী অভিবাসন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৮:২১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দক্ষতায় ঘাটতি, নির্যাতন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কমছে বাংলাদেশি নারী অভিবাসন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেণে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা বাড়তে থাকায় অনেক নারী এখন আর বিদেশে যেতে আগ্রহী নন। তাদের মতে, নারীদের দক্ষতা বাড়ানো, গৃহকর্মীর বাইরে নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৬ জন বাংলাদেশি নারী কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। করোনা মহামারির (২০২০) সময়ে জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধসের পর এটি ছিল উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার।
মহামারির আগের বেশ কয়েক বছর ধরেই বছরে এক লাখের বেশি নারী বিদেশে কাজ করতে যেতেন। তবে ২০২২ সালের পর থেকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালে নারী অভিবাসন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬০ হাজারের কিছু বেশিতে। সরকারের ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছেন ৫৬ হাজার ২৯২ জন নারী যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ কম।
গত ২২ বছরে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি নারী বিদেশে গিয়েছেন। তবে কতজন ফিরে এসেছেন বা তারা সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এর কোনো সরকারি তথ্য নেই। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) নির্বাহী পরিচালক শাকিরুল ইসলাম নারী অভিবাসন কমে যাওয়ার পেছনে কাঠামোগত ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বলেন, বিদেশে যে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়, তাদের বেশিরভাগেরই দক্ষতা খুব কম। এই কারণে তাদের চাহিদাও ধীরে ধীরে কমছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষতার ঘাটতি থাকলে নির্যাতনের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়।
এই নির্যাতনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত হওয়ায় সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিয়োগের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। যদিও এসব দেশ মানবাধিকার ইস্যুতে খুব একটা সক্রিয় নয়, তবুও ঝুঁকি এড়াতে তারা এখন বেশ সতর্ক। শাকির বলেন, সৌদি আরবের কথাই ধরুন তাদের সামনে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ, ২০৩০ এর এক্সপো। এসব আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে মানবাধিকার ইমেজ পরিষ্কার রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সুতরাং, দক্ষতা এখানে বড় বিষয়।
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আশরাফ হোসাইন নারী অভিবাসন কমে যাওয়ার পেছনে বাস্তব কিছু কারণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু এভাবে খবর দেবেন না যে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে। তারা কাজ পাচ্ছেন কি না এটাই বড় বিষয়। শুধু সৌদি আরবেই আট থেকে দশ লাখ মানুষ কাজ ছাড়া, বেকার ঘুরছে। রিক্রুটিং এজেন্সি এমনকি অনেক সময় আত্মীয়স্বজনও ফ্রি ভিসা এনে শ্রমিকদের ডাম্প করে বিপদে ফেলে দেন। তিনি আরও বলেন, গন্তব্য দেশে যদি চাহিদা না থাকে, তাহলে নারী শ্রমিকেরাও যাবে না। আর ইন্দোনেশিয়া বা ফিলিপাইনের মতো দেশ যদি শ্রমিক সরবরাহে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মী যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই কমবে।





