দক্ষিণ সুরমা মুক্ত দিবস আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : আজ ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুরমা মুক্ত দিবস। সম্মুখযুদ্ধ ও পাকহানাদার মুক্ত হয় কদমতলীসহ গোটা দক্ষিণ সুরমার ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুল, অতিরবাড়ি ও তেলিবাজার। সারাদেশের মতো সিলেটের মুক্তিযোদ্ধারাও সম্মুখযুদ্ধ চালিয়ে যান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক বলেন, ১২ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে খবর পাই ৫ জন পাকিস্তানি সেনা আলমপুর শিল্পনগরীর দিক হতে হেঁটে কদমতলী ক্যাম্পের দিকে আসছে। তাৎক্ষণিক আমরা বর্তমান পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নিকট ডিফেন্স গ্রহণ করি এবং তারা আসার সাথে সাথেই গুলিবর্ষণ করলে ৩ জন হাওর দিয়ে দৌড়াতে থাকে এবং নদীর পাড়ে চলে যায়। দুইজন কদমতলীস্থ খলকু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে কৌশলে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করাই। ১৩ ডিসেম্বর ভোর ৬ টায় মিত্র বাহিনীর মেনিখলাস্থ রাস্তায় আসলে আমরা তাদের সাথে যোগ দিই। তাদেরকে নিয়ে বর্তমান আনন্দ বিপণি মার্কেটের সামনে বাঙ্কার সৃষ্টি করে পজিশন নিয়ে ক্যাম্পের দিকে গুলিবর্ষণ করি। পাক সেনারা ক্যাম্প হতে ক্যাম্পের পিছনে গোরস্থান ও ইট ভাটায় আশ্রয় নেয়। অনেক গোলাগুলির পর প্রায় বিকাল ৩ টার দিকে ২১ জন পাকহানাদার আত্মসমর্পণ করে।
এই সময় নদীর উত্তরপাড় হতে একটা মর্টার আমাদের বাঙ্কারের উপর পড়ে। বাঙ্কারে অবস্থানরত সুবেদার রানা ও তার সাথে মিত্র বাহিনীর দুইজন ঘটনাস্থলে মারা যান। পরবর্তীতে আমরা ২১ জন পাকসেনা ও হামিদ মিয়ার বাড়িতে বন্দি থাকা দুইজন সহ মোট ২৩ জনকে শহীদ রানাসহ মিত্র বাহিনীর আরও দুইজন শহীদ এদেরকে মিত্র বাহিনীর অবস্থিত ক্যাম্প রেলস্টেশনে নিয়ে যাই। ঐ দিন রাতে আমরা হামিদ মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করি। ১৪ ডিসেম্বর মঈন উদ্দিন মিয়ার বাড়ি হতে আত্মগোপন অবস্থায় আরেকজন পাকসেনাকে আটক করি। তাকেও রেলস্টেশনে পৌঁছে দেই। এরপর মোগলাবাজার হতে আসা একটি আর্মি ভ্যান গুলি করে ড্রাইভারকে হত্যা করি ঝালোপাড়া মসজিদের সামনে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বিকালে আমার নেতৃত্বে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে মোল্লারগাঁও কলাপাড়া ও জিন্দাবাজারে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করি।





