হরিপুরে পাহাড় কাটার মহোৎসব
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩২:৩৫ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে কোনোভাবেই থামছে না পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৫/৬ জনের সংঘবদ্ধ চক্র বেপরোয়াভাবে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে। দিন-রাত সমানতালে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ফতেপুর ইউনিয়নে এই ধ্বংসযজ্ঞ বেপরোয়া আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে এসব পাহাড় কাটার মহোৎসব চালিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ- পাহাড় কাটারোধে প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি আজও। ফলে দিন দিন টিলা ও পাহাড় কাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরাও।
সরজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ২০/২৫টি ডাম্পার ট্রাকযোগে টিলার মাটিগুলো অন্যত্র জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামের রাস্তাগুলো জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব টিলা ধংস করার ফলে পরিবেশের বিপর্যয় আশঙ্কা করছেন টিলার আশেপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা উন্নয়ন চাই কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন চাই না। প্রশাসনের উদাসিনতায় এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আমরা আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হারাবো। প্রশাসন পাহাড়ের মালিকের উপর মামলা করে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, আমি যোগদান করার পর দুটি অভিযান পরিচালনা করেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট এর নিকট আমরা একটি প্রতিবিদন পাঠিয়েছি। এখান থেকে চুড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।





