প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে ঢুকে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হলেও ভাঙচুর থামানো যায়নি। অগ্নিসংযোগের পর কার্যালয় দুটির সামনে জড়ো হওয়া শত শত ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় ডেইলি স্টার ভবনের ছাদে আটকা পড়েন ২০ জন সংবাদকর্মী। আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তাঁরা বাঁচার জন্য সমাজমাধ্যম ফেসবুকে আকুতি জানান। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুরুতে শাহবাগের দিক থেকে মিছিল নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী নানান স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে কিছু লোক অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে। সেখানকার কাগজপত্র, কম্পিউটার নিচে ফেলে দেয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগও করে। প্রথম আলোর সামনে অগ্নিসংযোগের পর খানিকটা দূরে বহুতল ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধরা। তারা একপর্যায়ে ডেইলি স্টার ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিসংযোগ থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। অনেককেই অফিস দুটির বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সূত্র জানান, উত্তেজিত হয়ে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে। হামলায় কার্যালয়ের বেশির ভাগ জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।ভাঙচুরের সময় প্রথম আলো কার্যালয় থেকে কর্মীরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারলেও ডেইলি স্টার কার্যালয়ের নিচতলায় অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বের হতে পারেননি। এ সময় তাঁরা জীবন বাঁচাতে প্রতিষ্ঠানটির ছাদে আশ্রয় নেন। আগুনের ধোঁয়ায় কর্মীদের অনেকেই শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, কয়েক শ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলায় কারা অংশ নিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আগুনের ঘটনায় আমাদের তিনটি ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে ইনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রথম আলোতে ও ডেইলি স্টারে আগুন নির্বাপণের কাজ করে কয়েকটি ইউনিট। পুলিশের সহায়তায় তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট ডেইলি স্টারে আগুন নেভানোর কাছে কাজে অংশ নেয়। এ দুই ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর ছাদে আটকা পড়া সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করা হয়।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুনের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির লড়াই প্রতিষ্ঠান গড়ার লড়াই। গঠনতান্ত্রিক লড়াই। আধিপত্যবাদ ভেঙে বাংলাদেশ গড়ার লড়াই। যারা আজকে আগুন দিয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং এ কর্মসূচিকে উৎসাহ দিয়েছে, তারা হাদির স্পিরিটের বিরোধী। এটা পরিকল্পিত স্যাবোটেজ। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন গড়ে তুলুন। হাদির শহীদি মৃত্যুকে আমরা কোনোভাবেই কোনো হঠকারী গ্রুপকে ব্যবহার করতে দিবো না। হাদির খুনি ও গণহত্যাকারী হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত দিতে হবে।





