আজ ফিরছেন তারেক উচ্ছ্বসিত বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১০:১০ অপরাহ্ন
সিলেটে যাত্রা বিরতি, নামবেন না বিমান থেকে

জালালাবাদ রিপোর্ট: আজ ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক ও স্মরণীয়’ করে রাখতে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে সিলেট থেকে দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় গিয়ে অবস্থান করছেন। সরকার থেকে নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
লন্ডন থেকে সরাসরি তিনি ঢাকা যাচ্ছেন না, আসছেন সিলেটে। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করবে সকাল ১০টার দিকে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর সঙ্গে দেশের মাটিতে ফিরবেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
লন্ডন থেকে প্রথমে সিলেটে আসলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেটে বিমান থেকে নামবেন না তারেক রহমান। এজন্য কোন নেতা-কর্মীর সাথে দেখা হবে না তার। দলীয় নেতাকর্মীদেরও সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় যেতে মানা করেছে বিএনপি। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরসহ আশপাশ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিলেটের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করবেন।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময়ই নেওয়া হয়। এবারও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যা জানালো বিএনপি :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলায়েন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লণ্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সিলেটে যাত্রা বিরতীর পর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। যেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বিমানবন্দর থেকে তিনশ ফিট সড়কে তিনি সংক্ষিপ্ত অভ্যর্থনা সমাবেশে যোগ দেবেন বলে জানান তারেক আহমদ। তিনি বলেন, তিনশ ফিটের সংক্ষিপ্ত আয়োজনে তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না।
এসময় তারেক রহমানের কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থেকে তিনশ ফিট সড়কে অভ্যর্থনার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন।
পরদিন ২৬ ডিসেম্বর বাদ জুম্মা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান। ২৭ তারিখে এনআইডি কার্ড এবং ভোটার হওয়ার সব কাজ শেষ করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এছাড়া শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালেও যাবেন তিনি।
ব্যাপক প্রস্তুতি :
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা ঢাকায় পৌঁছেছেন। কুড়িল-সংলগ্ন সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তাঁরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ এলাকায় গতকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভ করছেন, আবার কেউবা ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘বীরের বেশে তারেক রহমান, আসবে এবার বাংলাদেশে’-এমন নানা স্লোগান দিয়ে এলাকা মুখর করে তুলছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনার আয়োজন করছে দলটি। রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় এ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে মঞ্চ তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকালে মঞ্চ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুড়িল থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের পরবর্তী অংশ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। আর কুড়িল মোড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ। মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছে মাইক।
গণসংবর্ধনায় যোগ দিতে ঢাকা গেছেন সিলেট সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪০ উপজেলা ও ২০ পৌরসভার নেতাকর্মী ছাড়াও সমর্থকরা। বাদ পড়ছেন না তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির এলাকার লোকজনও। পরিবহণের জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন বুধবার সিলেট-ঢাকা রুটের সব ট্রেনে রিজার্ভ করা হয়। অতিরিক্ত ৪-৫টি করে বগি ছাড়াও সড়ক পথে প্রায় ৪শ গাড়ি প্রস্তুত গেছে ঢাকা। এর বাইরে প্রাইভেট গাড়িও রয়েছে শতাধিক।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানা আয়োজন :
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় ভাবেও নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। বিমানবন্দরের রেড জোনে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে যাবেন শুধুমাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে যে জনসমাগম হবে, আয়োজনটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।গণমাধ্যম কর্মীদের জন্যও নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কিংবা অভ্যর্থনাস্থলে রেড জোনে প্রবেশ না করতে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।
বিমানবন্দর এবং অভ্যর্থনাস্থলের জন্য আলাদা নিরাপত্তা পাশ দেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যতটুকু নিরাপত্তা শঙ্কা আছে সেই লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তায় এসএসএফের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি সঠিক নয়।এছাড়া তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে সার্বিক আয়োজন ঘিরে বিমানবন্দর ও তিনশ ফিট, উত্তরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হচ্ছে।
তিনশ ফিট সড়কে মূল মঞ্চের কাছাকাছি ছয় শয্যার মেডিকেল ক্যাম্প এবং আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স থাকবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।





