জনতা ব্যাংকের ৩৩ গ্রাহকের খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ১৩১ কোটি টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতাদের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নথিপত্র অনুযায়ী, মাত্র ৩৩ জন বৃহৎ গ্রাহককে দেওয়া ঋণের বিপরীতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ১৩১ কোটি টাকায়।
নথিতে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী ৩৩ গ্রাহক জনতা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ পেয়েছে, ফলে তারা ‘বড় ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। এসব গ্রাহকের মধ্যে ২৭ গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ সীমা অতিক্রম করে ঋণ নিয়েছে, অধিকাংশই বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে।
শীর্ষ ১১ খেলাপি গ্রাহক : জনতা ব্যাংকের শীর্ষ ১১ গ্রাহকের কাছেই ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪২,৮২০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বেক্সিমকো গ্রপের ২৩ হাজার কোটি টাকা, এস আলম গ্রুপের ৯,৪০০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ২,০৫০ কোটি, রানকা গ্রুপের ১,৭২০ কোটি, রতনপুর গ্রুপের ১,২২৭ কোটি, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ১,০৮০ কোটি, সিকদার গ্রুপের ৮২৯ কোটি, জনকণ্ঠ গ্রুপের ৮০৯ কোটি, লিথুন ফ্যাব্রিকসের ৮০৫ কোটি, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ৮০০ কোটি এবং হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের ৭০০ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, ঋণ আদায়ে ব্যাংক প্রধানত দুটি কৌশল অনুসরণ করছে। প্রথমত, মামলা করে আদালতের মাধ্যমে বন্ধকি সম্পদ নিলামের মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করা। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সচল রয়েছে, সেগুলো নীতিমালার আওতায় নিয়মিত করে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, আমরা চলতি বছরের খেলাপি ঋণ থেকে আদায়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।আমরা বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তাদের কেউ কেউ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে, তবে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সামনের মাসগুলোতে আদায় আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।





