শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি ও মে দিবস সহ বেশিকিছু ছুটি বাতিল
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২২:৪২ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারি (শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে পালিত মে দিবস এবং সরস্বতী (হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাসমতে জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী) পূজার ছুটি বাতিল করে আসন্ন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ছুটির এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া যাবে না এবং সংবর্ধনা/পরিদর্শন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করা যাবে না। সংবর্ধিত/পরিদর্শনকারী ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না।
প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এবার মোট ছুটি রাখা হয়েছে ৬৪ দিন; যা বিদায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মোট ১২ দিন কম। ছুটি কমানোকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখলেও জাতীয় চেতনা, ধর্মীয় আবেগ ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের দিনের ছুটি বাতিলকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসছে ২০২৬ সালে শবে মিরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসেও আর বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে না। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরো সময়ই স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে প্রকাশিত ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুসারে ২১ রমজান পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে হবে। অর্থাৎ রমজান মাসে বেশির ভাগই স্কুল খোলা থাকবে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী ২০২৫ সালে রোজা, দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোট ২৮ দিন ছুটি রাখা হয়েছিল। তবে আসন্ন ২০২৬ সালে এসব দিবস মিলিয়ে ছুটি কমিয়ে ১৯ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন মিলিয়ে আগে যেখানে ১৫ দিন ছুটি ছিল, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমিয়ে ১২ দিন করা হয়েছে। শীতকালীন ছুটি থেকেও এক দিন ছুটি কমানো হয়েছে এতে।
২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী একুশে ফেব্রুয়ারি (শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস), মে দিবস, শবে মিরাজ, সরস্বতী পূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা, আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে আর বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে না।
পরীক্ষার সূচি প্রসঙ্গে এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনি পরীক্ষা ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়ে ফল প্রকাশ ১৮ নভেম্বর। আর বার্ষিক পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর। এ ছাড়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা, নির্বাচনি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বার্ষিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি পরীক্ষার সময় ১২ কর্মদিবসের বেশি হবে না।
স্ব-স্ব বিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র (পাবলিক পরীক্ষা ব্যতীত) নিজেদেরই প্রণয়ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো বিশেষ কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে আগে।
এতে বলা হয়েছে, ছুটিকালীন অনুষ্ঠেয় ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদন ও অন্যান্য পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনে বিদ্যালয় খোলা রাখতে হবে। এসএসসি পরীক্ষার সময় পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যতীত অন্য বিদ্যালয়গুলোতে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, বাংলা নববর্ষ ও ১৬ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় বিদ্যালয়ে উদযাপন করতে হবে।





