বিএনপিতে বিকল্প প্রার্থীর দীর্ঘলাইন
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২৫:০৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য সব ঝুঁকি মাথায় রেখে আগাম কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। বয়স্ক, অসুস্থতা, ঋণখেলাপি জটিলতা কিংবা মনোনয়ন যাচাইয়ে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে দলটি অনেক আসনে মূল প্রার্থীর পাশাপাশি ব্যাকআপ বা বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে। যারা সবাই মনোনয়নও জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ একাধিক নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন, যা নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বিএনপির জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ঢাকা বাদে ৬৩ জেলায় জমা পড়া মনোনয়নপত্রের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১৮টি আসনে প্রায় ১৭৯ জন বিএনপি নেতা ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন। যাদের মধ্যে বিকল্প ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন।
এদিকে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করার পরও একাধিক মিত্র দলের নেতার বিপরীতে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে থাকলে শরিকদের নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হওয়ার শঙ্কা আছে।
গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে অনেক আসনে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ধানের শীষের প্রার্থীর পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থীকেও মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নের চিঠিতে সংযুক্তি-১ উল্লেখ থাকলে তিনি প্রাথমিক চূড়ান্ত প্রার্থী এবং সংযুক্তি-২ উল্লেখ থাকলে তিনি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
কোনো কারণে প্রাথমিক প্রার্থী মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য ঘোষিত হলে সংশ্লিষ্ট আসনে বিকল্প প্রার্থীকে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে সরে দাঁড়াতে বিকল্প প্রার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদল, বাড়ছে স্বতন্ত্র চাপ: সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে একাধিক আসনে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে শেষ দিকে অন্তত ১৮টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। মাঠপর্যায়ের জরিপ, দলীয় অসন্তোষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘প্রধান প্রার্থী যেকোনো কারণে মাঠে থাকতে না পারলে বিকল্প প্রার্থীকে আমরা সঠিক সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবো। এটি আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ, যাতে ধানের শীষের শক্তি অটুট থাকে এবং ভোটে কোনো ঝুঁকি না থাকে।’





