সিলেটে প্রাথমিকে শতভাগ, মাধ্যমিকে এলো ৬৯ ভাগ বই
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:১৩:৪০ অপরাহ্ন
শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহতের শঙ্কা

এমজেএইচ জামিল : আগামীকাল নতুন বছরের প্রথম দিন। এবারও বছরের শুরুতে হচ্ছে না ‘বই উৎসব’। তবে সীমিত আয়োজনে নতুন বই পাবেন শিক্ষার্থীরা। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিবেন নতুন বই। আনন্দে মেতে উঠবেন শিক্ষার্থীরা।
এবছর সিলেট বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও কারিগরি শাখার সাড়ে ২৮ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৭০ হাজার ১৩৪টি বই বিতরণ করা হবে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৯১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪২ টি বই। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই এলেও মাধ্যমিক স্তরে বই পৌঁছেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর সিলেট বিভাগের সাড়ে ১৬ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য ৫৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৩ টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই স্ব স্ব উপজেলায় ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। এসবের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪টি এবং ইংরেজী ভার্সন স্কুলের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর জন্য ৭২ হাজার ৭৭৯টি বই রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি সিলেট অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনালের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি ৩২ লক্ষ ২৬ হাজার ৮১৯ টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পৌঁছেছে ৯৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ১১৬টি বই। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুলের জন্য ৮৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৬৭টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৫৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ১০৯টি বই।
মাদ্রাসার ৪৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৭০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৪০ লক্ষ ৪০ হাজার ৭১৯টি বই।
ভোকেশনালের ২ লক্ষ ৩০ হাজার ১৮২টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ২৯৮টি বই। সব মিলিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনালের বই পৌঁছেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। ফলে ৩১ শতাংশ বই থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে সিলেট অঞ্চলের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে।
এদিকে মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরুতে কোন শিক্ষার্থী খালি যাবেনা। শিক্ষার্থীরা ৩/৪ টাকা করে ভিন্ন বিষয়ের বই হাতে পাবেনা। তবে জানুয়ারী মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়ে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। পরের বছর ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি প্রথমবার বই উৎসব করে তৎকালীন সরকার। এরপর টানা ১৫ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথমদিনে উৎসব করে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। দেড় দশকের সেই রীতিতে ভাটা পড়ে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের সময়ে। ‘অপ্রয়োজনীয় খরচ’ এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ঘটা করে বই উৎসব বাতিল করে। নানা সংকটের কারণে গেল বছরও সব বই পেতে শিক্ষার্থীদের ২ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে এবার সব বই হাতে না পেলেও ইতোমধ্যে সব বই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় পাঠের বই ডাউনলোড করে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারবেন।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বিতরণ করা হবে। যার মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার জন, ১ম শ্রেণিতে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার জন, ২য় শ্রেণিতে ২ লক্ষ ৯০ হাজার জন, ৩য় শ্রেণিতে ২ লক্ষ ৭০ হাজার জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ২ লক্ষ ৮০ হাজার জন ও ৫ম শ্রেণির ২ লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীদের সকল বই ইতোমধ্যে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এবছর ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন তাই এমনিতেই স্বাভাবিক লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটবে। এরমধ্যে যদি জানুয়ারী মাসে পুরো বই হাতে না আসে লেখাপড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত বছর থেকে ছাপা সমস্যা লেগেই আছে। সরকারের সংশ্লিষ্টদের উচিত এই দিকে বিশেষ নজর দেয়া।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার দৈনিক জালালাবাদকে জানান, এবছর অনেক আগে বই পৌছে গেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বই চলে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পৌছে যাবে নতুন বই। এবার উৎসব না হলেও বছরের ১ম দিনে স্ব স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সীমিত পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু সায়ীদ মো: আব্দুল ওয়াদুদ দৈনিক জালালাবাদকে জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিকের প্রায় ৬৯ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। প্রতিদিনই বই আসছে। সেসব উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বছরের ১ম দিনে ঘটা করে অনুষ্ঠান না হলেও বই বিতরণ করা হবে। শহর এলাকায় সীমিত পরিসরে আয়োজন থাকবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি সিলেট অঞ্চল পরিচালক ড. মো. আব্দুল কাদির দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, বিভিন্ন কারণে বই ছাপায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৭০ ভাগ বই পৌঁছে গেছে। আমাদের প্রত্যাশা জানুয়ারী মাসের মধ্যেই সব বই পৌঁছে যাবে।





