পৌষের শীতে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামলো ৭ ডিগ্রিতে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় পৌষের তীব্র শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। প্রতিদিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এরইমধ্যে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। তাপমাত্রা আর নিচে নামার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এছাড়া ১০ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এগুলো হলো রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা। এদিকে সিলেটে মঙ্গলবার রোদের দেখা মিললেও তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হাড় কাঁপানো শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেনে বেশিরভাগ লোকজন। তীব্র শীত আর একটানা কুয়াশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধারা। প্রতিনিয়তই সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, রাজশাহীতে রেকর্ড হওয়া ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। তিনি আরও বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে, তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের শৈত্যপ্রবাহের শ্রেণি অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, আর ৪ ডিগ্রির নিচে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ মাসে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি হতে পারে তীব্র।
এদিকে তীব্র শীতে জনজীবন যখন বিপর্যন্ত তখন এর মধ্যে এলো নতুন দুঃসংবাদ। আজ বুধবার দেশের ৫ বিভাবে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মঙ্গলবার এক ফেইসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
ওই পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ লিখেছেন, বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এদিন সকাল ৬টার সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
কুয়াশার তথ্য জানিয়ে পলাশ লিখেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলার ওপরে (ফেনী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছাড়া) কুয়াশার উপস্থিতি রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া অন্য ৬টি বিভাগের জেলাগুলো মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশার উপস্থিতি থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় দুপুর ১২টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্য ৫ বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সূর্যের আলোর দেখা মিলতে পারে।





