শীতে জমজমাট সুনামগঞ্জে হাঁসভাত পয়েন্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৩:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদদাতা: ভোজনরসিকদের সব সময় হাঁসের মাংস প্রিয়। শীত যখন বাড়ে, তখন হাঁসের মাংসের কদর আরও বেড়ে যায়। হাঁসের মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যথেষ্ট পরিমাণে, যা শরীর উষ্ণ করে, গরম অনুভূত হয়। এবারও প্রচণ্ড শীতে হাঁসের মাংসের কদর বেড়েছে বলে ভিড় জমেছে সুনামগঞ্জের হাঁসভাত পয়েন্টে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটারের মাথায় গত কয়েক বছর হয়, সুস্বাদু হাঁসের মাংস বিক্রয়ের বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এই স্থানকে একসময় বলা হতো দিরাই সড়ক মোড়, যা মদনপুর পয়েন্ট হিসেবেই চিনতেন সকলে। সম্প্রতি এ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসহ পর্যটন এলাকায় আসা হাজার হাজার পর্যটকের মুখে মুখে এই মোড়ের পরিচয় হয়ে উঠেছে হাঁসভাত চত্বর। চত্বরে থাকা সব রেস্টুরেন্টের সামনে বড় সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট’। খাবারের মেন্যুতে স্থানটির নামও বদলে গেছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাঁসভাত পয়েন্টে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। সিলেট-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সীমান্তের পর্যটন স্পটগুলোতে যাবার সময় এখানে গাড়ি থামিয়ে হাঁসভাত, অর্থাৎ গরম হাঁসের মাংস, টেপির চালসহ নানা জাতের খাবার খেয়ে রসনার তৃপ্তি মেটান।
দোকানিরা বলছেন, সকলে মিলে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ হাঁস জবাই করে রান্না করছেন। কোনো কোনোদিন তাতেও কুলায়য় না। পর্যটক ছাড়াও প্রতিদিন সিলেট-হবিগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলার তরুণরা এখানে হাঁসের মাংস দিয়ে ভাত খেতে ভিড় করেন।
এই পয়েন্টের সবকটি রেস্টুরেন্টের নামের সঙ্গে হাঁসভাত কথা যুক্ত। যেমন মডার্ন অ্যান্ড রাফি হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট, মামুভাগ্নে হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট, সাঈদ হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট, মেহমান বাড়ি হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট ও ভাটিবাংলা হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট। গেল ছয় মাসে এখানে সাতটি রেস্টুরেন্ট বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে জনতা, আপ্যায়ন, কুটুমবাড়ি, গ্রামবাংলা, গার্ডেন ও নিলাদ্রী হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট। চত্বরে প্রথম গড়ে ওঠা খাবারের হোটেল পাশের মদনপুর গ্রামের আতিকুর রহমানের মডার্ন অ্যান্ড রাফি হাঁসভাত রেস্টুরেন্ট। প্রায় আট বছর আগে তিনি একটি হাঁস জবাই করে কিছু ছোট মাছ রান্না করে কয়েকজন গাড়িচালক, হেলপারকে খাইয়েছিলেন। প্রথম দিন দুজন বাসচালক ও চালকের দুই সহকারীর কাছ থেকে হাঁসভাতের টাকা পান তিনি। পরদিন থেকেই একজন-দুজন করে বাড়ছিল তাঁর ক্রেতা। প্রথমদিকে বাসের স্টাফরাই ছিলেন ক্রেতা। যত দিন গেছে, তাঁর হাতে রান্না করা হাঁসের মাংসের কদরও বেড়েছে। ক্রমান্বয়ে দোকানও বেড়েছে। এখন কেবল আতিকুর রহমানের রেস্টুরেন্টেই প্রতিদিন শতাধিক হাঁস রান্না করে বিক্রয় করা হয়।
সকালে দেশি হাঁসের পাইকাররা হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাঁস নিয়ে আসেন। চাহিদা অনুযাযী রেস্টুরেন্ট মালিকরা হাঁস কেনেন। ভরপেট ভাত ও হাঁসের মাংস ১৮০ টাকায় বিক্রি হয় এখানকার রেস্টুরেন্টে। তবে পরিচিত বা নিয়মিত ভোজনকারীকে কিছু কদরও করেন রেস্টুরেন্ট মালিকরা। তারা জানান, কোনো মাংস ফ্রিজে রেখে রান্না করেন না। অর্থাৎ বাসি মাংস নয় না; প্রতিদিন হাঁস এনে রান্না করা হয়। এ জন্য মজাদার হয়; ক্রেতারাও আসেন অধিক সংখ্যক।





