বিএনপির প্রার্থী’র সাথে ১০ দলের হেভিওয়েট প্রার্থী চান ভোটাররা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১০:৪১ অপরাহ্ন

মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মৌলভীবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে ৫ প্রার্থী প্রতীকের অপেক্ষায় রয়েছেন। এসকল প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক, চাচক্র এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। চষে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। তবে, বৃহস্পতিবার রাতে ১০ দলের পক্ষ থেকে আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিলাল ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা লুৎফুর রহমান কামালীর মধ্যে সমঝোতা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে । তবে কে হবেন জামায়াত জোটের প্রার্থী এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ১০ দলের সাংগঠনিকভাবে মজবুত প্রার্থীর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ভোটের মাঠ চষে বেড়াতে এগিয়ে জামায়াত মনোনিত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান।
মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত এম নাসের রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা লুৎফুর রহমান কামালী ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত।
প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বার্ষিক আয়, স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মধ্যে ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে ৮৭ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান ও ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলালের।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসনে ১টি পৌরসভা, ২০টি ইউনিয়ন, ১৭৫টি ভোট কেন্দ্র, ৯৩৪টি ভোট কক্ষ এবং ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ২’শ ১২জন ভোটার রয়েছেন।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বি.কম (সম্মান) এবং পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি দুসাই রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন পরিচালক সম্মানি ৩১ লক্ষ ৪০ হাজার এবং সম্পত্তির ভাড়া থেকে ৫৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। নাসেরের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪১ হাজার ২’শ ৫৬ টাকা। ৩টি ব্যাংকে জমা আছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩’শ ৪০ টাকা। দ্সুাই, ইউনিভার্সাল ল্যাভেল ও শেয়ার মার্কেটে বড় অংকের বিনিয়োগ রয়েছে বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থীর। ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দামের দুইটি গাড়ি রয়েছে নাসেরের। ১৫ ভরি স্বর্ণ ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র (বৈধ) রয়েছে। ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের ঢাকার গুলশানে উত্তরাধিকারসূত্রে ৩টি এপার্টমেন্টের মালিক নাসের। সব মিলিয়ে তিনি ৪১ কোটি ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৩’শ ৪০ টাকার অস্থাবর এবং ৮৭ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। এদিকে, কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে আইএফআইসি ব্যাংকের ঢাকা বনানী শাখায় ৮১ কোটি ও কোম্পানীর শেয়ারের বিপরীতে ৬ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। সম্পদে পিছিয়ে নয় নাসেরের স্ত্রী রেজিনা নাসেরও। তিনিও ওই আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কাগজে অসঙ্গতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। নাসের রহমান তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ৪৭ লক্ষ ৭৯ হাজার ২’শ ২৪ টাকা। বিদেশী মুদ্রা আছে ১ লক্ষ ১২ হাজার ৫’শ ২৬ টাকার। ৫টি ব্যাংকে জমা আছে ৪৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪’শ ৫টাকা। বিনিয়োগ রয়েছে দেড় কোটি টাকার মতো। সঞ্চয়পত্র ৪০ লক্ষ টাকার। ৮টি ব্যাংকে এফডিআর আছে ৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৫ হাজার ৯’শ ৬৬ টাকা। রয়েছে ৫০ ভরি স্বর্ণ। মেয়ে ফারহীন আমিরা রহমান এর ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে দুসাইয়ে। বিএনপি’র এই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক ১৮৮১ সনের এনআই এ্যাক্ট আইনে ঢাকা মহানগর ৪র্থ যুগ্ম আদালতে মামলা করেছিল (মামলা নং ১৯৬৭৯/১৯)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক মামলা প্রত্যাহার করেছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও সিলেট বিভাগীয় টিমের সদস্য এবং সাবেক মৌলভীবাজার জেলা আমীর। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক এবং পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ও কৃষক। বর্তমানে তিনি পরিবহন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন কৃষিখাতে ১ লক্ষ ৮’শ, সম্পত্তির ভাড়া থেকে ২ লক্ষ ৫২ হাজার, ব্যবসা থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার (পরিবহন) ও ব্যাংক আমানত থেকে ২ লক্ষ টাকা। মান্নানের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮’শ টাকা। ২টি ব্যাংকে জমা আছে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪’শ ৯৪ টাকা। শেয়ারে বিনিয়োগ আছে ১৫ লক্ষ টাকা। ৫ লক্ষ টাকা দামের ১টি মিনিবাস রয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৩.৫৯৮ একর ও ক্রয়সূত্রে ২৪.৭২ একর ভুমির মালিক। রাজনগরের দত্তগ্রামে পৈত্রিক ১টি বাড়ি রয়েছে মান্নানের। সব মিলিয়ে তিনি ১৯ লক্ষ টাকার অস্থাবর এবং ৩ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। জামায়াতের এই প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানার হাতে নগদ রয়েছে ৫০ হাজার টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে মান্নানের স্ত্রী ২৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ৪০ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক।
খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল এবং পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি ট্রাভেলস ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ব্যাংক আমানত থেকে ১০ লক্ষ টাকা। ১টি মোটরকার ৯২ লক্ষ টাকা। কৃষি জমির পরিমান ৪.৬৭৯২ একর, অকৃষি জমি ৮.৮৮ একর ও ৬ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন রয়েছে মৌলভীবাজার পৌর শহরে। সব মিলিয়ে তিনি ২৯ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক। তবে এই প্রার্থী সর্বমোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এনআরবিসি ব্যাংকে তার ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কামালী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা তাকমিল ফিল হাদিস এবং পেশায় তিনি একজন বেসরকারী চাকুরীজীবী। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ব্যবসা থেকে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ও বেসরকারী চাকুরি থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। লুৎফুরের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লক্ষ ৯৭ হাজার ৯’শ ৩৩ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ২ হাজার ৬৭ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি ১৬ লক্ষ টাকার অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদ নেই। লুৎফুর রহমান কামালী’র স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহর লাল দত্ত। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ এবং পেশায় তিনি একজন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লক্ষ টাকা। জহরের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লক্ষ ৫ হাজার ৫০ টাকা। ব্যাংকে কোনো টাকা জমা নেই। সব মিলিয়ে তিনি ৩ লক্ষ টাকার অস্থাবর এবং ৭ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী’র স্ত্রী লক্ষী রানী সেন সরকারি চাকুরিজীবি।





