জগন্নাথপুরে সেতুর পাইল নির্মাণ করে কাজ বন্ধ, ভোগান্তিতে জনসাধারণ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০১:৩৮ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর সংবাদদাতা: জগন্নাথপুরের জগদীশপুর সেতুর পাইল নির্মাণ করে কাজ বন্ধ করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ১০ গ্রামের লোকজন।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক কলকলিয়া-তেলিকোনা-চন্ডিডহর সড়ক। এ সড়কের জগদীশপুর বড়খালের উপর নির্মিত সেতু ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেতু নির্মাণের টেন্ডার প্রদান করলে সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স এম ডি জামিল ইকবাল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মানের কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর পাইল তৈরীর কাজ করে পরবর্তীতে কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জগন্নাথপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। এতে ভোগান্তিসহ বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
উক্ত সেতুটি ব্যবহার করে কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর, শ্রীধরপাশা, কামারখাল, তেলিকোনা, কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও সহ ৮/১০টি গ্রামের লোকজন উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছেন। প্রায় বছর খানেক ধরে সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ঐ এলাকার জনসাধারণ। তবে সেতুর কাজটি হবে কি না এনিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ফোন নাম্বার চাওয়া হলে উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কারো ফোন নাম্বার দিতে পারেননি। অবশেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ওয়াহিদুজ্জামানের নাম্বার দেন।
ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ৬ মাস পূর্বে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের চাকুরী ছেড়ে দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আরেকটি নাম্বার দেন। ওই নাম্বারে বার বার ফোন দিলেও মুঠোফোনটি রিসিভ হয়নি। শ্রীধরপাশা গ্রামের বাসিন্দা সংবাদকর্মী মুকিম উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সেতুটি টেন্ডার হয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কাজ শুরু করার কিছুদিন যেতে না যেতেই কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। সেতুর কাজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ভোগান্তিতে রয়েছি। কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখে চলে যাওয়ায় জনসাধারণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য বার বার তাগিদ দিয়ে আসছি। বন্ধ হওয়া সেতুটির কাজ দ্রুত চালু করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।





