জমেছে শাকসুর নির্বাচনি প্রচারণা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৯:১৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এমন নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বাইরে জুমার নামাজ শেষে কেউ হাত মেলাচ্ছেন, কেউ প্রচারপত্র বিলি করছেন। ভিড়ের দিকে এগোতেই প্রচারপত্র ধরিয়ে এক প্রার্থী বলেন, ‘ভাই, কেমন আছেন? ভোট ও দোয়াপ্রত্যাশী।’ ভোটারদের কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন প্রার্থীরা। শিক্ষাসহ আবাসিক হলের মানোন্নয়ন, খেলাধুলার পরিসর বাড়ানো ও ছাত্রীদের জন্য নানা সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। প্রচারণার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে আগামীকাল শনিবার রাত ১০টায় প্রচারণার সময় শেষ হচ্ছে। এ কারণে ভোটারদের কাছে অন্তত একবার হলেও পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
তথ্য মতে, গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনায় শাকসু নির্বাচন স্থগিতের উপক্রম হলে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তী সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে যোগাযোগ করে প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পাঠায়। এরপর বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ইসি শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দেয়। এতে প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রচারণায়ও নতুন করে গতি এসেছে।
ইতোমধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল ২৮ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। তবে ছাত্রদল ও বাম সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এখনও ইশতেহার দেননি।সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগর হোসেন বলেন, প্রার্থীদের প্রচারণায় এখন ভিন্নতা আসছে। সবাই ভোট চাইতে আসছেন। নানা সংকটের বিষয়ে প্রশাসনকে তাঁরা প্রশ্ন করবেন, দাবি আদায়ে কাজ করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি। তবে নির্বাচন যথাসময়ে হোক, একই সঙ্গে সবার মধ্যে যে আমেজ আছে, সেটা বজায় থাকুক।
দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ শিক্ষার উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, ভোটারদের কাছে গিয়েছি, তারা ভালো সাড়া দিয়েছেন। সবাই এখন পরিবর্তন চায়।বাম সমর্থিত শাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। সবাই আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভালো সাড়া পাচ্ছি।
ছাত্রদল সমর্থিত সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রচারণার সময় এক দিন বৃদ্ধি করা ও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিতেও এক দিন সময় দেওয়া উচিত। কারণ, সবার কাছে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারছি না। আশা করি, নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তা নিশ্চিত করবে। শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রচারণার সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।





