ওসমানীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা : কর্মবিরতি অব্যাহত, তদন্ত কমিটি গঠন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪১:৪৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত থেকে চলমান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি শনিবারও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের অনুরোধেও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেননি তারা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে অন্তসত্ত্বা এক নারীকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন তার স্বজনরা। ওই নারীর চিকিৎসা নিয়ে কালবিলম্ব করায় বাগবিতন্ডার জেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান ওই রোগীর স্বজনরা। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎক ও হাসপাতালের স্টাফরা জড়ো হয়ে ১ নারীসহ সাথে থাকা দুই পুরুষকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। পরে পুলিশ ১ নারী ও ২জন পুরুষকে আটক করে। হাসপাতালের স্টাফদের হামলায় গুরুতর আহত রোগীর দুই ২ স্বজনকে বেসসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আটককৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার কৈতক গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) ও ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
এদিকে শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, মধ্যরাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সাথে সাথে হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
তারা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে শনিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেন তারা।
এদিকে, হামলার ঘটনা তদন্তে শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎকরা ধর্মঘটে থাকলেও হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের মিড লেভেলের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যে কোনো সময় কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।
ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
এ ব্যাপারে এসএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি খান মোঃ মাইনুল জাকির বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার ঘটনার পরপর নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক এবং মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতালে যায়। হামলার ঘটনায় ৩ জনকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে।





