ফ্রান্সে নিহত ফেঞ্চুগঞ্জের সামিদুরের মা পেলেন ১০ লাখ টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৩:৩৭ অপরাহ্ন

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি: ফ্রান্সে নিহত ফেঞ্চুগঞ্জের যুবক সামিদুর রহমানের মা ছানা বেগম অবশেষে ১০ লাখ টাকা মৃত্যুদাবির অর্থ পেয়েছেন। কর্মভিসায় ইউরোপ যাওয়ার সময় ম্যানপাওয়ার কার্ড করার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জীবন বীমা কর্পোরেশনে এক হাজার টাকার একটি পলিসি খোলা হয়। সেই পলিসির আওতায় সামিদুর রহমানের মৃত্যুদাবি হিসেবে এ অর্থ প্রদান করা হয়।
জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া ও ছানা বেগম দম্পত্তির একমাত্র ছেলে সামিদুর রহমান (২০) ২০২৩ সালে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া গমন করে। সেখানে পৌঁছে যথারীতি কাজে যোগদান করে সামিদুর রহমান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক আত্মীয়কে দেখতে ফ্রান্স যায় সামিদুর। মার্চের ৩ তারিখ ৪ রমজান ফ্রান্সে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে। সকালে সবাই জেগে উঠলেও সামিদুর জেগে উঠেনি। রোমের সঙ্গীরা সামিদুরকে ডাকতে গেলে তাকে মৃত অবস্থায় পান। ফরাসি পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্ট্রোকজনিত কারণে সামিদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। ২০২৫ সালের মার্চের ২১ তারিখ সামিদুর রহমানের লাশ ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।
ছেলের মৃত্যুর পর ক্ষতিপুরণ পাওয়ার আশায় ছানা বেগম প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন। প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স অধিদপ্তর থেকে তাকে জানানো হয় আবেদন করার জন্য। তাদের কথামত আবেদন করেন। কিছুদিন পর ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয় কাইটেরিয়ায় না পড়ায় তিনি কোনো ক্ষতিপুরণ পাবেন না। এমতাবস্থায় কেটে যায় বেশ কয়েক মাস। ছানা বেগম জানান, তার এক আত্মীয় ফেঞ্চুগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম বালাগঞ্জের মইশাষি গ্রামের পর্তুগাল প্রবাসি শামস উদ্দীন পুরো বিষয়টি অবগত করেন দৈনিক মানবজমিন ও জালালাবাদ পত্রিকার ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি হাসান চোধুরীকে। ঘটনা শোনে হাসান চৌধুরী উদ্যোগ নেন। তিনি ঢাকায় যোগাযোগ করে সামিদুর রহমানের একটি বীমার খবর পান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন সামিদুর রহমানের নামে জীবন বীমা কর্পোরেশনের একটি বৈধ পলিসি রয়েছে এবং সে অনুযায়ী মৃত্যুদাবি হিসেবে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার অধিকারি ছানা বেগম।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক হাসান চৌধুরীর ভুমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সামিদুর রহমানের মা ছানা বেগম। তিনি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পর্তুগাল প্রবাসি শামস উদ্দীনের প্রতি। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সম্পাদনে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ মাইজগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইউপি সদস্য জিয়াউল ইসলাম তুলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফকিরপাড়া গ্রামের সমাজসেবি খোকনুর রহমানের প্রতি।





