হাইকোর্টে স্থগিত শাকসু নির্বাচন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৩:৩৯ অপরাহ্ন
♦প্রত্যাখান করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ♦ ভিসি-প্রো-ভিসি অবরুদ্ধ ♦ চেম্বার আদালতে আপিল শুনানী হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে দীর্ঘ ২৯ বছর পর বহুল প্রতিক্ষিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।তবে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সোমবার বিকেল ৪টায় সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবেদন গ্রহণ করলেও শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করেননি আপিল বিভাগ। ফলে গতকাল সোমবার শুনানী না হওয়ায় ৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি শাকসু নির্বাচন অধরাই থেকে গেল।
এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ প্রত্যাখান করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধসহ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের একাংশ ও সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বাকি কর্মকর্তাদের তালা খুুলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন শাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ঘেষা স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন শিক্ষার্থী । প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়। রিটটি তড়িঘড়ি করে পরদিন সোমবারের (১৯ জানুয়ারি) কার্যতালিকায় তিন নম্বরে রাখা হয়।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শাকসু নিয়ে দায়ের করা রিটের শুনানী হয়। শুনানী শেষে দুপুর ২টায় রায়ের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। পরে দুপুর ২টায় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও এডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু ও অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানী করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের যে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তা চার সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এর ফলে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে না। চার সপ্তাহ পর যেকোনো দিন শাকসু নির্বাচন হতে পারে।
হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আবেদন গ্রহণ করলেও শুনানীর সময় নির্ধারণ করেননি আপিল বিভাগ। তাৎক্ষণিক শুনানী না হওয়ায় হাইকোর্টের দেওয়া নির্বাচন স্থগিতের আদেশ বহাল থাকলো। ফলে আজ মঙ্গলবারের পূর্বঘোষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যথাসময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে গত রোববার থেকে রাজধানীর আগারগাও ইসি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইসি ভবন ঘেরাও থাকবে বলে জানান। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে ইসি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুরে হাইকোর্টে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের : শাকসু নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের একাংশ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলওয়ার হাসান শিশির বলেন, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা শুরু হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বলতে চাই, আপনারা প্রতিবাদ করুন। সারা বাংলাদেশকে শাটডাউন করে দিন। পরে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে বিক্ষোভ মিছিল থেকে জানানো হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু কয় তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘শহীদ রুদ্র শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’, ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’ ‘হাইকোর্ট দিয়ে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’ —এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে তারা অভিযোগ করেন। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা। পরবর্তীতে জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার অবরুদ্ধ : শাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগে গতকাল সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই শাকসু নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফলে সকাল থেকেই সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তবে আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় তালাবদ্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ভবন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী।
রিটকারী ভিপি প্রার্থীকে শাবিপ্রবিতে অবাঞ্চিত ঘোষণা : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করা ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পর এমন ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অবরোধ করা শিক্ষার্থীরা বলেন, শাকসু আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী বিশেষ একটি দলের প্ররোচনায় হাইকোর্টে রিট করে শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করেছে। তাই আমরা তাকে শাবিপ্রবিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। পরে তার ছবিতে জুতাপেটা করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শাকসুর নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষকের পদত্যাগ : হাইকোর্টের রায়ের আগে সোমবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ৮ শিক্ষক। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছি না। আমরা আহ্বান জানাবো, অন্যরাও যাতে দায়িত্ব পালন না করেন। নির্বাচন পরিচালনায় হয়তো ২০০ শিক্ষক লাগবে। এখান থেকে আমাদের মতের সাথে একাত্মতা যারা পোষণ করে, তারাও সরে আসবেন। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রধান ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন। এসময় তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।
আশ্বস্ত হয়ে ইসি ছাড়ল ছাত্রদল : সংশ্লিষ্টদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনের অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে সমাপ্ত করেছে ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এ তথ্য জানান। এর আগে ব্যালট পেপারে অনিয়ম ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারসহ তিন অভিযোগের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ সংশ্লিষ্টরা।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা আমাদের ৩ অভিযোগের বিষয়ে ইসি থেকে আশ্বস্ত হয়েছি। আমরা আরও আশ্বস্ত হতে চাই। তারা আমাদের অনুরোধ জানিয়েছেন আমরা যেন আজকের মতো কর্মসূচি এখানে স্থগিত করি। সেজন্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমরা সাময়িকভাবে এই কর্মসূচি এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করছি।
ছাত্রদল সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আবারও কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী কিংবা কোনো ছাত্র সংগঠন এখানে প্রবেশ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা চালায়, কিংবা নির্বাচন চলাকালীন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের বাধ্য করে তাহলে ছাত্রদল কী করতে পারে, তা দুই দিনে দেখিয়েছে। আমাদের বাধ্য করবেন না, আমাদের হুমকি দেবেন না। আপনাদের যা করার করেন, আমাদের কাজ আমরা করবো।
রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ : শাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ডাকসু এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান এবং গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনে একদল হারবে, একদল জিতবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে তরুণদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রসমাজ কখনোই মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হাইকোর্টে গিয়ে এমন একটি রায় আদায় করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদসহ সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি। সাদিক কায়েম বলেন, বিচার বিভাগকে নিয়ে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আবার যদি বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়, ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী জালালাবাদকে বলেন, শাকসু নির্বাচন করতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে যেহেতু নির্বাচন আদালত স্থগিত করেছে, সেখানে আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কিছু করার এখতিয়ার নেই। আমরা বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবেলা করছি। সোমবার রায়ের পর বিকেল ৪টায় চেম্বার জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুনানীর দিন ধার্য করেননি আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, আমরা সকাল থেকে অবরুদ্ধ রয়েছি। প্রক্টরিয়াল টিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়নি। আমি, প্রো-ভিসিসহ আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবো। তাদেরকে বুঝিয়ে বিষয়টি সমাধান করবো।





