৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১০:৩৮ অপরাহ্ন
নিরাপত্তায় ৯ লাখের বাহিনী, সঙ্গে ড্রোন

জালালাবাদ রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার দিক থেকে মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৯ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। তন্মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি।
এসময় এক সাংবাদিক জানতে চান, গুরুত্বপূর্ণ মানে কি এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ? জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মানে হলো ঝুঁকিপূর্ণ যেগুলো-নিরাপত্তার দিক থেকে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভিও স্থাপন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটে সবমিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থাকবে ১ লাখ সদস্য, নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন থাকবে।
এছাড়া এবারের নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ড্রোনের ব্যবহার। নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, নৌ-বাহিনী ১৬টি, বিজিবি ১০০টি, পুলিশ ৫০টি, কোস্ট গার্ড ২০টি, র্যাব ১৬টি এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মোট ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য বিভিন্ন বাহিনী তাদের ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে।
ইসি সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার/নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৫৪ জন, ওয়ারেন্টমূলে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ মোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তা ছাড়া এই অভিযানে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গানপাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী এবং কর্মকর্তাদের পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনের আগের চার দিন এসব এলাকায় নিবিড় টহল পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





