ওসমানীনগরে প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দু’গ্রুপে উত্তেজনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৪:৪৫ অপরাহ্ন
ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ইউনিয়নের রেজুলেশন বই নিতে আসলে একটি পক্ষ বাধা প্রদান করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি।
জানা যায়, উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা ও তাজপুর ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি সাহেদ আহমদ মূসা। ২৪ এর ছাত্রজনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাহেদ আহমদ মূসার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে একটি পক্ষ। এসময় চেয়ারম্যান মূসার পক্ষেও একটি গ্রুপ আন্দোলনে নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়ারম্যান মূসাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মূসা চেয়ারম্যান জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিষদ পরিচালনা করেন। ইদানীং চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মূসা যুক্তরাজ্য যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে নতুন প্যানেল তৈরি করার দাবী উঠে। কিন্তু চেয়ারম্যান নতুন প্যানেল তৈরি না করে পুরাতন প্যানেলের তালিকায় ৩ নম্বরে থাকা আছারুন নেছাকে দায়িত্ব দিতে চাইলে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসে।
বুধবার বিকাল ৩টার দিকে চেয়ারম্যান মূসার লোকজন ইউপি অফিস থেকে রেজুলেশন বহি আনতে গেলে ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেন লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এসময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেন জানান, আমরা পুরাতন প্যানেল ভেঙ্গে নতুন প্যানেল তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়ার দাবী করে আসছি। গতকাল চেয়ারম্যান সাবের লোকজন রেজুলেশন বহি নিতে আসলে আমরা বহি নিতে দেইনি।
প্যানেল তালিকার ৩য় অবস্থানে থাকা ইউপি সদস্য আছারুন নেছা বলেন, আমি প্যানেল তালিকায় থাকায় চেয়ারম্যান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নিয়মমাফিক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ পাওয়ার যোগ্য। একটি গ্রুপ আমাকে মেনে নিতে পারছেনা।
ইউপি সচীব অমিত সিংহ বলেন, দায়িত্ব নিয়ে একটি বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি স্যারের টেবিলে নিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মূসার সাথে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে অপরারগতা প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সমস্যা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এখানো কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।





