বিএনপির জনসভায় শাবির ভিসি-প্রো-ভিসি, ভিডিও ভাইরাল
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২৮:৪৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাদেরকে। এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একপি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থেকে সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনসভার মঞ্চে স্থান না পেয়ে বাঁশের ব্যারিকেড টপকে মঞ্চের সামনের প্রথম সারিতে যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম। সেখানে জায়গা না পেয়ে অনেক্ষণ তাদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না। তবে তা অমান্য করে বিএনপির জনসভায় অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম।
দেলোয়ার হোসেন শিশির নামের একজন লেখেন, বিএনপি’র সমাবেশে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করার জন্য ভিসি-প্রো-ভিসি স্যারকে ধন্যবাদ! স্টেইজে জায়গা না পেয়ে, বাঁশের উপর দিয়ে লাফিয়ে জনতার কাতারে দাঁড়ানোর কারণে সেই মর্যাদা আরও বেড়ে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আদিল হাসান সিদ্দিকী ছবি শেয়ার করে লেখেন, বিএনপির সমাবেশে শাবির দুই ছাত্রদ ল কর্মী। মাঝে ভিসি, পাশে প্রোভিসি (সাদা চুল দাঁড়ি)। এরা আবার শিক্ষক হিসেবে সম্মান চায়।
এ আর আনিস নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক? এস এইচ প্রান্ত নামে একজন লিখেছেন, সাস্টের প্রতিটি স্টুডেন্টের ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করতে ভিসি, প্রো-ভিসি স্যারের দৌড়ঝাঁপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখাই ভালো। শাকসু না হোক, উই হ্যাভ অ্যা ফ্যামিলি কার্ড। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসিসহ যারা তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গেছেন, এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এ কর্মকাণ্ডের কারণে বাকরুদ্ধ। তিনি আরও বলেন, যেখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিচার চাওয়ার কথা, সেখানে তারা নিজেরাই আইনবিরোধী কার্যক্রম করছেন শুধু নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতি হিসেবে লজ্জিত। জাতি যাদের কাছে বিচার দেবে তারাই অন্যায় করে বেড়াচ্ছে। ফয়সাল হোসেনের ভাষ্য, আমরা এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন করে আগামী দিনে নতুন করে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, এর আগেও আমাকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনও আমি পড়েছি। আমরা সেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় যাইনি। আমরা গিয়েছি শ্রোতা হিসেবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।





