খোদ প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ভূলে গেলেন তারেক রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩২:২৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সেই নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য শেষে খোদ প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিলেন না দলীয় প্রধান। আসনভিত্তিক প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে না দেওয়া ও তাদের পক্ষে ভোট না চাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারেক রহমান। এতে ভোটের মাঠে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী।
বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহঃ) এর মাজার জেয়ারত শেষে বরাবরই সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিতেন। জনসভা শেষে সিলেটের সবক’টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানসহ সিলেটের সবক’টি আসনের এমপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগ একতরফা ভোট করলে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারাগারে ছিলেন এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করে আওয়ামীলীগ।ফলে এই তিন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণা করেননি। মায়ের দেখানো সেই পথ ধরে তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও মূল কাজটি করতে ভূলে গেলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিলেন না ভোটারদের সামনে। যদিও এই দুই জেলার সকল প্রার্থী মঞ্চে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মিনহাজ আহমেদ নামের একজন লেখেন, জনসভার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করে দিয়ে তাদের জন্য ভোট চাইবেন, কিন্তু খোদ সেই কাজটি করতে ভূলে গেলেন তারেক রহমান। প্রথম পরীক্ষায়ই ফেল করলেন চেয়ারম্যান। জাবেদ আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, প্রথম জনসভায়ই অসম্পূর্ণ। পরীক্ষায় উত্তির্ণ হতে পারলেন না চেয়ারম্যান। সবকিছু অগোছালো। প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ভোট চাইলেন না চেয়ারম্যান। এটার প্রভাব ভোটে পড়বে।





