গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দিতে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য : ড. বদিউল আলম মজুমদার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৫:০০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা রেখে গেছে। গণভোটে ‘হ্যা’ বিজয়ী না হলে, সংস্কার কার্যক্রম থেমে গেলে পরবর্তী সরকারও ফ্যাসিবাদী দানবে পরিণত হতে পারে। এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নস্যাত হবে। এত গুলো মানুষের প্রাণহানি বিপলে যাবে। তাই গণভোটে ‘হ্যা’ এর পক্ষে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারী) সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)- সিলেট জেলার উদ্যোগে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, এনজিও, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের সংগঠকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।
তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন- সুজনের সিলেট জেলা সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবির, সাংবাদিক গোলজার আহমদ হেলাল, ইউকে বাংলা এডুকেশন এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আছাদুজ্জামান ছায়েম, সিলেট মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এড. সৈয়দ কাওছার আহমদ, সুজন সুনামগঞ্জ কমিটির সম্পাদক ফয়জুল হক সাঈদ, সাংবাদিক হাসিনা বেগম, সিলেট প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমীন, নিউ নেশনের সিলেট ব্যুরো এস এ শফি, দৈনিক জালালাবাদের সিনিয়র রিপোর্টার এমজেএইচ জামিল, সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর, দৈনিক জালালাবাদের ফটো সংবাদিক জয়নাল আবেদীন আজাদ ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটো সাংবাদিক আজমল আলী প্রমূখ।





