অস্তিত্ব সংকটে মধ্যম শক্তির দেশগুলো
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৪:৪৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দীর্ঘ ৮০ বছরের ‘নিয়ম-নির্ভর’ বিশ্বব্যবস্থা আজ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব রাজনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে বড় শক্তির দেশে-দেশের শক্তির লড়াইয়ের প্রভাব পড়ে মধ্যম শক্তির দেশগুলোতে, যেমন কানাডা ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলিতে।
সাম্প্রতিক দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের বক্তব্যে এই সংকট স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কার্নি হুশিয়ারি দিয়েছেন, বিশ্ব এখন আর কোনো রূপান্তর বা ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি একটি বড় ‘বিচ্ছেদ’। তিনি বলেন, শক্তিশালী দেশগুলো যখন নিয়ম মানার ভান ছেড়ে দিয়ে নিজের স্বার্থে বাণিজ্য শুল্ক বা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তখন মধ্যম শক্তির দেশগুলো নিরাপদ থাকে না। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল, “যদি আলোচনার টেবিলে জায়গা না পান, তবে বুঝে নেবেন আপনি অন্যের খাবারের মেনুতে পরিণত হয়েছেন।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্বজুড়ে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার উত্থান ঘটিয়েছে। সম্প্রতি তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের আচরণকে ‘অত্যন্ত অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের এককেন্দ্রিক নীতি এখন কেবল লাতিন আমেরিকা বা এশিয়ার দেশগুলোতেই নয়, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপরও আছড়ে পড়ছে।
অন্যান্য বিশ্লেষকরা ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করেছেন। তারা দেখাচ্ছেন, ট্রাম্পের নীতি ১৯ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’-এর মতোই এককেন্দ্রিক এবং স্বেচ্ছাচারী। অতীতে ইরান, গুয়াতেমালা ও পানামায় মার্কিন হস্তক্ষেপ যেমন ছিল নিয়ম-বহির্ভূত, বর্তমানের বাণিজ্য যুদ্ধ ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চাপও তেমনই। এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বকে আবার প্রাক-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অরাজকতায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্বে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং দায়বদ্ধ সরকার চিরস্থায়ী নয়; এগুলো রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। এই ভঙ্গুর বিশ্বব্যবস্থায় মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সামনে একটাই পথ—ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নতুন জোট গঠন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে বড় দেশগুলোর স্বার্থ ও শক্তির লড়াইয়ের মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে সতর্ক হতে হবে, অন্যথায় তারা বড় শক্তির সিদ্ধান্ত ও চাপের প্রভাবের শিকার হতে পারে।





