সিলেট-১ আসনে ভোটযুদ্ধে মাঠে হাবিব-মুক্তাদির : ডিজিটাল ব্যানার নজর কাড়ছে ভোটারদের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫:৪৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে নগরে ও গ্রামে চড়ে বেড়াচ্ছেন এই দুই প্রার্থী। এই আসনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে গ্রাম-শহর। নির্বাচনি প্রচারে বাড়তি আমেজ তৈরি করেছে মাইকে নির্বাচনি গান। যা ভোটারদের মনোযোগ কাড়ছে।
জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর নির্বাচনী আমেজ বেড়েছে নগরে। গত চার দিনে সিলেট-১ আসনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী একাধিক পথ সভা ও উঠান বৈঠক করেছেন দুই প্রার্থী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নগর ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর ব্যানারে লেখা, চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ। সেখানে ইনসাফ ও ন্যায় সাম্যের সমাজ গঠনের কথাও বলা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর ব্যানারে ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দিন লেখা শোভা পাচ্ছে। নগরের প্রতিটি মোড়েই এই দুই প্রার্থীর ব্যানার শোভা পাচ্ছে। যদিও এই দুই প্রার্থী ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদ থেকে আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদ থেকে প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মো: শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্চয় কান্ত দাস (কাঁচি) মার্কায় সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করছেন। তবে তাদের প্রচার প্রচারণা তুলনামূলক কম এই দুই প্রার্থীর চেয়ে। তবে তাদের ডিজিটাল ব্যানারও শোভা পাচ্ছে কিছু এলাকায়। এছাড়া মাইকিং করেও তাদের প্রচার প্রচারণা চলছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার নগরের ৩৮ নং ওয়ার্ড চারুগাও এবং সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মেদেনীমহল,দর্শা,বাছিরপুর, সুজাতপুর ও মীরেরগাঁও এলাকায় গণসংযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ধানের শীষের প্রচারণায় রয়েছেন খন্দকার মুক্তাদিরের স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিনও। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহর গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন এই রাজনীতিবিদ। এর আগের দিন রোববার রাতে নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের কায়েস্তরাইলে উঠান বৈঠক করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সিলেটে শিল্প পার্ক ও আইটি হাব গড়ে তোলাসহ ভোটারদের নানা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিভিন্ন পথ সভায় বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়াসহ নির্বাচিত হলে সিলেটের চেহারা বদলে দেবেন বলেও জানান এই প্রার্থী।
অপরদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পন্সর কোম্পানী হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: ফজলুর রহিম কায়সারের সভাপতিত্বে ও সহযোগী অধ্যাপক ডা: হোসাইন আহমদের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পন্সর কোম্পানী হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: শাহানা ফেরদৌস চৌধুরী, পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ইফতেখার উদ্দিন ও এমডি অধ্যাপক ডা: ওয়েছ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
এসময় মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পরও সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী বন্ধ করা যায়নি। এর একটাই কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের অভাব। একটি দেশ, জাতি ও সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনার সৎ ও যোগ্য মানুষকে নির্বাচিত করা। জামায়াত এক ঝাঁক সৎ ও আদর্শবান মানুষ তৈরী করেছে। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে নির্বাচিত করুন আমরা ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ উপহার দিবো। সবার জন্য সুনিশ্চিত করা হবে। এছাড়া রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় ভাঙ্গন রোধ, ঢাকা-সিলেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়ক-রেল ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে কার্যকর ভুমিকা পালন করা, সিলেটের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে বাস্তবমূখী পদক্ষেপ নেয়া ও জামায়াত সরকার গঠন করলে দেশে শুধু ছাত্রীদের জন্য পৃথক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করার কথা জানান। পরে বিকেলে নগরের জিতু মিয়ার পয়েন্টে পথ সভা করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। প্রতিটি জনসভায় ব্যাপক সাড়া পাচে¦ছন বলে জানান জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এই প্রার্থী।
প্রার্থীদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ভোটের সময় ঘনিয়ে আসায় এখন প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁরা সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সবাই। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রচারের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই জমে উঠছে ভোটের মাঠ।





