সরগরম সিলেটের নগর থেকে গ্রাম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১০:১০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : দিন যত যাচ্ছে ততই এগিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর ওদিকে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় এখন সরগরম সিলেটের নগর থেকে গ্রাম।ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। দলবেঁধে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তারা।
বিভিন্ন আসনে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানও। স্বামী-পিতার জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও দেখাচ্ছেন নানা স্বপ্ন। এক্ষেত্রে প্রাথীদের সবার সুর প্রায় অভিন্ন।
এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে নির্বাচনী মাঠে। প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছেন। সংসদীয় আসনগুলোর সর্বত্র পথঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার ও ফেস্টুনে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চমকপ্রদ ছন্দ, সুর আর লিরিকের থিম সং, রিলস ও গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে চলছে এক ধরনের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা।
বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সবকটি আসনেই বিরাজ ভোটের উৎসবের আমেজ।
সিলেট জেলার ৬টি আসনে এবারের ভোটযুদ্ধে রয়েছেন মোট ৩২ জন প্রার্থী। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাম দলগুলোর প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয়। পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। প্রতীক পাওয়ার পরপরই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সবাই।
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিলেট-১ আসনে। এছাড়া সিলেট-৩ আসনে ৬ জন, সিলেট-২, সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসনে ৫ জন করে এবং সিলেট-৫ আসনে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন ভোটযুদ্ধে।
সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্চয় কান্ত দাস (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে এখন পর্যন্ত প্রচারণায় এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও দাড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, জনসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গত পরশু এ দুই প্রার্থী একটি সংলাপে কোলাকুলি ও খোশগল্পে মেতে ওঠেন। প্রার্থীদের এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নজর কাড়ে এবং তাঁরা এর প্রশংসা করেন।
সিলেট-২ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে প্রচারণায় ব্যস্ত ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এছাড়াও জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুনতাসির আলীও দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) ও গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)। তবে তাঁদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না।
সিলেট-৩ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (ধানের শীষ) ও জামায়াত ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা) প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল মালিকের স্ত্রীও ভোটের মাঠে সক্রিয়। আর মুসলেহ উদ্দিন রাজুর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
অন্য তিনি প্রার্থী জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ও মইনুল বকর (কম্পিউটার) ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ রয়েছেন। তাঁদের প্রচারণাও চলছে সমানতালে।
সিলেট-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হওয়ায় প্রচারণা ও ভোটের মাঠে তিনি অনেকটাই এগিয়ে।
ওদিকে, অনেকটা দেরিতে মাঠে নেমেও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটছেন তিনি। তার সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
সিলেট-৪ আসনের বিএনপি-জামায়াতের দুই প্রার্থী গত পরশু একটি নির্বচনী সংলাপে সৌহার্দ্য বিনিময় করে সবার নজর কাড়েন। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (লাঙ্গল) ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সিলেট-৫ আসনে প্রচারণায় সবার নজর কাড়ছেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি)। এছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (ফুটবল প্রতীক), বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) ও হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় রয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিল্লাল উদ্দিনও।
সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থীর দম ফেলার ফুরসত নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক গত পরশু তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন।
এছাড়াও জোরালো প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও। সাধ্যমতো প্রচার চালাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জমিয়তের মো. ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), গণঅধিকার পরিষদের জহিদুর রহমান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর (লাঙ্গল)।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সিলেট বিভাগের ছয়টি আসনেই এবারের নির্বাচন হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রচারের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই জমে উঠছে ভোটের মাঠ।
ভোটের মাঠে প্রার্থীরা ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রচার-প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।





