কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করলে পরিণতি হবে হাসিনার মতো : সাদিক কায়েম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮:৪১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, সেটি হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। একটি রাজনৈতিক পক্ষ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং আবার গুম-খুন ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় দেশের শীর্ষ ৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধিদের যৌথ প্লাটফরম ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, দেশে আর কেউ যদি হাসিনা হতে চায়। তাহলে হাসিনাকে যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।
জকসু’র জিএস মো. মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে বক্তব্য রাখেন- শাবি ভিসি প্রফেসর ড. এ.এম সরওয়ার উদ্দিন, সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, শাবির ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ ইসমাইল হোসেন, বিভাগ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আহমদ, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী, জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জাকসু এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, রাকসু’র এজিএস এস এম সালমান সাব্বির, জকসু’র এজিএস মাসুদ রানা, ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, আসিফ আব্দুল্লাহ, সদস্য শাহিনুর রহমান, জাকসু’র স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক হুসনি মুবারক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি, কার্যকরী সদস্য তারিকুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. নূর নবী, সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহীন আহমদ ও শাকসু নির্বাচনের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির প্রমূখ।
এতে সিলেট জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাদিক কায়েম আরো বলেন, গণভোটে এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই তুলে দেওয়া। এই বাংলাদেশের কৃষকের টাকা, শ্রমিকের টাকা, রিকশাচালকের টাকায় যে দেশ চলে, তাদের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বানানোর জন্য ক্ষেত্র তৈরি করাই হলো ‘হ্যাঁ’-এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যে গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেই খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করা।
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ধারণ করছে।
তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে।
সবশেষে সাদিক কায়েম সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এএম সারওযার উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে গত তিনটি সরকারে ভোটগ্রহণ অত্যন্ত জটিল ও অনিয়মিত পরিবেশে হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ভোট দেওয়া, আগের রাতে ভোট দেওয়া, ভোটের বাক্সও ছুরি দিয়ে খোলা-এমন ধরনের নির্বাচন পৃথিবীর কোন দেশেই হয়নি। এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই হাফ ভোটের আয়োজন করেছে। গণভোটের মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতা ও মতামত যথাযথভাবে প্রকাশিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না।
ড. সরওয়ারউদ্দিন আরও বলেন, আমাদের সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে প্রফেসর আলী রিয়াজ আছেন। উনি আমেরিকায় পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর ছিলেন এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন। উনার সঙ্গে আলোচনা করে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, ভোট দেওয়ার কারণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট একটি ব্যবস্থা যাতে ফ্যাসিজম বা একক ক্ষমতা আর সৃষ্টি না হয়। ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আসে এবং নিয়ম-কানুন সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে গণভোটে ‘হ্যা’ কে বিজয়ী করতে হবে। এদেশে ভারতীয় ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপচেষ্টা আর চলবেনা। যারা বাংলাদেশপন্থী তারা গণভোটে ‘হ্যা’ এবং যারা ভারতপন্থী তারা গণভোটে ‘না’ ভোট দিবে।
চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কারণে সিলেটের ইলিয়াস আলীকেও গুম করা হয়েছে। একটি দল গণভোটে তাদের অবস্থান আজো স্পষ্ট করেন নি। তৃণমূলে তারা না এর প্রচার করছে।
শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গঠনে গণভোটে ‘হ্যা’ কে বিজয়ী করতে হবে। গণজমায়েতে ছাত্র নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। কিন্তু একটি দল এখনো গণভোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। গণভোটে হ্যাঁ দেওয়া মানে কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতানো না, আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে রক্ষা করতে এবং চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়তে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।





