মৌলভীবাজার-১ আসন : সৎ যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০৬:২৪ অপরাহ্ন

আব্দুর রব, বড়লেখা : বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের জনসংখ্যা ৬ লক্ষাধিক। দুই উপজেলাই দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি আর পাহাড় বেষ্টিত এবং রয়েছে অন্যতম প্রাকৃতিক ঝর্না, অসংখ্য সবুজ গালিচা চা বাগান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোপার্ক ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থাকায় পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনাময় রয়েছে এই আসনে। এই আসন থেকে অতীতে যারাই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ঘুরেফিরে তারা একই বৃত্তেই থেকেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটাররা এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান যিনি সেই গন্ডি থেকে বেরিয়ে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের প্রত্যাশা পুরণ করবেন। জুলাই অভ্যুত্থানের মুলমন্ত্র পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ায় বলিষ্ট ভুমিকা রাখবেন। প্রান্তিক এলাকার উন্নয়নে বেশি নজর দিবেন। নির্বাচনের আগের প্রার্থী আর পরের নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে থাকবে না কোনো পার্থক্য। প্রতিশোধ, বিভেদ আর দোষারোপের রাজনীতির বলয় থেকে বেরিয়ে এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত থাকবেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অন্তরায় হবেন না, স্বজনপ্রীতিকে দেবেন না প্রশ্রয়, প্রভাব বিস্তারে তৈরি করবেন না নিজস্ব কোনো বাহিনী ও চাটুকার। সমস্যার কথা জানাতে জনগণকে যেন পড়তে না হয় দলীয় চাটুকারদের খপ্পরে। এমন একজন যোগ্য, সৎ, শিক্ষিত, জনবান্ধব ও মানবিক জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান বলে জানালেন বেশিরভাগ ভোটার।
বড়লেখার সংস্কৃতিকর্মী ও ব্যবসায়ী মো. জুনেদ রায়হান রিপন বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক উদার গণতান্ত্রিক চেতনার অধিকারী মানুষের দেশ। এখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে নিরাপদে সম্মান নিয়ে বসবাস করতে চায়। আমি এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই যিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করেন। যার কাছে সবাই নিরাপদ বোধ করবে। বড়লেখা একটি প্রান্তিক জনপদ হওয়ায় উন্নয়নের দিকেও সবচেয়ে পিছনে পড়ে থাকে। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে, অথচ আজ পর্যন্ত কোন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে সেভাবে আওয়াজ তোলেননি। আমরা হানাহানি, বিভেদ আর দোষারোপের রাজনীতি বাদ দিয়ে যিনি এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় নিবেদিত থাকবেন তাকেই ভোট দিতে চাই।
নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক ও পরিবেশকর্মী মোশারফ হোসেন সবুজ বলেন, এমপি হওয়ার পরও খুব সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজেকে বিবেচনায় নিয়ে যিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিলেমিশে তাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবেন এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই। পুলিশকে দলনিরপেক্ষ থাকতে দেবেন, স্বজনপ্রীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না, চাটুকার তৈরি করবেন না, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজির জন্য গড়ে তোলবেন না নিজস্ব কোনো বাহিনী। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ সততার সাথে ব্যবহার করবেন, শহরকে যানজটমুক্ত করবেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও শব্দদূষণের ব্যাপারে সম্যক ধারণা রাখবেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির অতিরিক্ত চর্চাকে নিরুৎসাহিত করে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন, এমন প্রতিনিধিকেই নির্বাচিত করতে চাই। এমপি হওয়ার পর প্রতিদিন একবার চোঁখ বুজে তিনি নিজের পবিত্র দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন কি-না যিনি তা ভাববেন তাকেই ভোট দিতে চাই।
গৃহিনী তাহমিনা নওরীন তানিয়া জানান, এবার নির্বাচনে বড়লেখায় যিনি আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন যেমন মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে বলিষ্ট ভুমিকা রাখতে পারবেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগী হবেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও পর্যটন শহর গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবেন। সততা এবং ন্যায়পরনতাই হবে যার প্রধান শক্তি, সেই রকম প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই।
গৃহকর্মী হাসিনা বেগম বলেন, এমপি হওয়ার পর আমাদের কথা মন দিয়ে শোনার যার ধৈর্য্য ও সময় থাকবে তাকেই ভোট দেব। একজন ধনী মানুষ যেভাবে দেশের নাগরিক, আমরাওতো তেমনি দেশের নাগরিক এমন ভেবে যে আমাদের ছোটবড় না ভেবে মূল্য দেবে, সম্মান দিবে তাকে ভোট দেব।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ভুক্ত এনজিওকর্মী টামলিমন বারে বলেন, সুখে দুঃখে যাকে সব সময় পাশে পাব তাকেই এমপি হিসেবে দেখতে চাই। বিশেষ করে আমরা যখন জটিল সমস্যায় পড়ি তখন যেন তার সাহায্য পাই। আমাদের পাহাড়ি বলে যেন মামলা-হামলার শিকার হলে ন্যায় বিচার পেতে অপরাধীরা নিজের লোক হলেও তাদের বিপক্ষে দাঁড়ান, আমাদের সাপোর্ট দেন। মোট কথা জনস্বার্থের যেকোন বিষয়ে যিনি নিবেদিত থাকবেন এমন প্রার্থীকেই আমরা ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চাই।





