রাজার ছেলে রাজা হবে, সেই সংস্কৃতি পাল্টে দিতে চাই : জামায়াত আমীর
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪০:১৫ অপরাহ্ন
40
জালালাবাদ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই।শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনীতে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা শহরের ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের আমীর বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। আমরা তাদের সবার অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইনশা আল্লাহ এই কাজে কেউ বাধা দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না।
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে, চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। একটু জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করেন, এতগুলো শহীদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুলির সামনে যাঁরা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের সম্মান করুন। সেই সম্মানটা করলে মাথা গরমের কোনো সুযোগ নেই।
নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। আমরা তাদের অতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাব, মা-বোন আপনাদেরও রয়েছে। নিজেদের মা-বোনকে সম্মান করুন, তাহলে বাংলার সবগুলা মা ও বোনকে আপনি সম্মান করতে পারবেন।
১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, দাঁড়িপাল্লার মার্কা হচ্ছে স্বাধীনতা রক্ষার মার্কা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মার্কা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মার্কা। এর পক্ষে গোটা দেশে একদম চাষ করে ফেলতে হবে। একটা মানুষও বাদ যাবে না।
জামায়াতের আমীরের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় জনসভাস্থল। বেলা ১১টায় তিনি মঞ্চে ওঠেন। এ সময় তিনি গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। বেলা ১১টা ১২ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। ১১টা ৩৫ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীক তুলে দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো পরিবর্তন আসেনি। গুম-খুনের শাসনের কারণে জুলাই আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছিল। গত দেড় বছরে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছেন তরুণেরা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড না দিয়ে চাঁদাবাজি থেকে বেঁচে থাকার কার্ড দেবেন। ইভটিজিং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের কার্ড দেবেন। তাহলে মানুষের কাজে লাগবে। রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব কার্ড দেওয়া নয়। এটি ইউনিয়ন পরিষদ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাজ। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হলে আরেকটি ৫ আগস্ট ফেনী থেকে শুরু হবে।





