একই রাতে ৩১টি দোকানে চুরি দঃসুরমায়
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৩:১৩ অপরাহ্ন

শরীফ আহমদ, দক্ষিণ সুরমা : দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন জালালপুর ইউনিয়নে হাওর বেষ্টিত আনিলগঞ্জ বাজারে ৩১টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে। এর ৩ দিন পর ২৬ জানুয়ারি সোমবার রাতে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ধোপাঘাট এলাকায় একটি পরিত্যাক্ত প্রাইভেট কার সহ ২টি গরু জব্ধ করে দক্ষিণ সুরমা থানা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই সহ হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও শিববাড়ি এলাকায় ভোরে স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে স্বর্বস লুটে নেয়। গত ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রাজ্জাক হোসেন হত্যার ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তার পুত্রকে আদালতে হাজির করলেও স্বীকারোক্তি দেয়নি। গত নভেম্বর মাসে এক প্রবাসীর অটোরিক্সা (সিএনজি) ছিনতাই হলেও বিভিন্ন বিদেশী নম্বরের মাধ্যমে চাঁদাদাবী করে, ২ লক্ষ টাকা দেয়ার পর লালাবাজার সাত মাইল এলাকা থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। নগরীর চন্ডিপুলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজারের মোটরসাইলেক চুরি হলে ১ লক্ষ টাকা দাবী করে। চলতি মাসে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজারে ২টি মটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।
বিশস্থ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বঙ্গবীর রোড, নাজিরবাজার, লালাবাজার, মৌলভীবাজারের শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নম্বরের মাধ্যমে টাকা দাবী করে পরিত্যাক্ত অবস্থা গাড়ী ফেলে রেখে চলে যায়। গত ৬ মাসে প্রায় শতাধিক গাড়ি নিখোঁজ হয়েছে।
আনিলগঞ্জ বাজার সূত্রে জানা যায়, সকালে ব্যবসায়ীর বাজারে এসে দেখতে পান দোকানে চুরির সংঘটিত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেন। টহল পুলিশ মুখলেছ জানান, বাজারে কোন নাইটঘাট নেই। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় ফুটেছ সংগ্রহ করে নেই অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে।
জানা যায়, এরপার্শ্ববর্তী নকিবরচক এলাকায় ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে আগত এক ব্যক্তি ছিনতায়ের শিকার। তার থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা।গত নভেম্বর মাসে তিরাশীগাঁও গ্রামে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে দিনে দুপুরে ২১ লাখ টাকা ও ১০ ভরী স্বর্ণ লুট হয়। এখনো পর্যন্ত উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি মোগলাবাজার থানা পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বানেশ্বরপুর গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া, আবুল আহমদ ও ইকবাল আহমদের বাড়িতে একই রাতে ১১টি গরু চুরি। ২টি গরু সহ গাড়ি জব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত চুরি কাছে ব্যবহৃত গাড়ির মালিককে গ্রেফতার করতে পারেনি। গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে টিকা লাগানো জরুরী মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজে নিয়োজিত।
একই সাথে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন বাজারে রাতের আধারে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে চন্ডিপুল চত্বর, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, নর্থইষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গন, চকেরবাজার, মুন্সিবাজার, লালাবাজার, কামালবাজার, মকনদোকান পয়েন্ট, মার্কজ পয়েন্টে কিশোর গ্যাংদের দেখা যায়। এ বিষয়ে মোগলাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মোবারক হোসেন জানান, আনিলগঞ্জ বাজারের দুর্দষ চুরির ঘটনার সাথে জড়িতদের সিসির ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হবে।
ভোক্তভুগী সূত্রে জানাযায়, সিলেট হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল বাইপাস সড়ক এবং তেলীবাজার-তেমুখী বাইপাস সড়ক, আলমপুর-পুরান পুলের মুখ, হুমায়ুন শিবাড়ি-পুরান পুলের মুখ সড়কে অটোরিক্সা (সিএনজি)-তে পিছনে ১টি সিট খালি রেখে ৩ জন ছিনতাইকারী যাত্রীসেজে বসে থেকে অটোরিক্সা দিয়ে যাতায়াত করতে থাকে, উক্ত সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী একক কোন যাত্রী পেলে গাড়িতে উঠানের পর কৌশলে মোবাইল ও নগদ টাকা চুরি করার পর ৩ জন চোর সহ সিএনজি ড্রাইভার দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রতিদিন ১০/১৫টি মোবাইল ও ছিনতাই ঘটনার অভিযোগ দক্ষিণ সুরমা থানা ও মোগলাবাজার থানায় করা হয়। এসব অভিযোগের পর ২/১টি মোবাইল উদ্ধার করলেও চোরচক্রকে গ্রেফতার করতে পারছেনা থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আনিছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত চুরি, ছিনতাই ও লুটের ঘটার বিষয়গুলো তদন্ত চলমান। গরুর মালিককে খোঁজে পেলেও গাড়ির নম্বর প্লেটের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে গরু চোর ধরার জন্য।





