আচরণবিধি লঙ্ঘনে নীরব প্রশাসন
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫১:২৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনী আচরণবিধিতে রঙিন বিলবোর্ড নিষিদ্ধ, তবে সেটা শুধু আছে কাগজে কলমেই। আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রঙিন বিলবোর্ড টানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তবে শুধু রঙ্গিন বিলবোর্ড টানিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি, টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজকের বেড়া ও সেতুর উপর অপচনশীল পিভিসি প্লাস্টিকের ব্যানার ও বিলবোর্ড টানিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন প্রার্থীরা। নগরজুড়ে এমন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও ইসি নীরব ভূমিকা পালন করছে। তবে ইসি বলছে, আচরণবিধির বিষয়টি ইসির আওতাধীন নয়, তাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে না ইসি।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধি বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। অপচনশীল দ্রব্য (যেমন-রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাইবে না। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে, এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিক্সা, অটোরিক্সা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাতে পারবেন না। ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ ও প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।
তবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড টানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তিনি সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, শাহী ঈদগা, ওসমানী মেডিকেলসহ বিভিন্ন এলাকায়, ফুটওভার ব্রিজের উপর রঙিন পিভিসি বড় বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর প্রায় সব গুরুত্ত্বপূর্ণ জায়গায় পিভিসি ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশার মাঝেও রঙিন পোস্টার সাাঁটিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক বিভাজকের বেড়ায় পিভিসি ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের রঙ্গিন কোনো বিলবোর্ড চোখে পড়েনি।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় রয়েছে, আচরণ বিধি অমান্য করলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রয়েছে শাস্তির বিধানও। নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার শাস্তি বা জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসির কড়া নির্দেশনা থাকলেও সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন প্রার্থীদের এসব আচরণবিধি লঙ্ঘন আমলে নিচ্ছে না।
সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ইসির আওতাধীন নয়। প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সেটা রির্টানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দেখার কথা। এ বিষয়ে সিলেট-১ আসনের সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারটা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন। তিনি এ বিষয়ে বলতে পারবেন।





