মধ্য শাবান’র রজনী আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৫:০০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আজ শাবান মাসের ১৪ তারিখ। আজকের দিবাগত রাতকে হাদিসের পরিভাষায় ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ ‘শাবানের মধ্যবর্তী রজনী’ বলা হয়। নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত-বন্দেগি না থাকলেও মধ্য শাবানের রাত একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একদা মধ্য শাবানের রজনীতে উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা.-এর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে রাসুলে করিম সা. নীরবে জান্নাতুল বাকির সমাধিস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করছিলেন (বায়হাকি)।
এছাড়া এই রাতের ব্যাপরে একটি সহিহ হাদিস রয়েছে। হাদিসটি হলো: আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন (ইবনে মাজাহ ১৩৯০)। তবে শুধু এই রজনী নয়, পুরো শাবান মাসে রাসুল সা. ইবাদত বন্দেগিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
হজরত উসামা বিন জায়েদ রা. বলেন, একদা নবী করিম সা.-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি তো আপনাকে শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে এতো অধিক রোজা রাখতে দেখি না। উত্তরে তিনি বললেন, শাবান মাসটি রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস। অনেক মানুষ এ মাসের ফজিলত সম্পর্কে উদাসীন থাকে। অথচ বান্দার আমলসমূহ এ মাসে আল্লাহর সমীপে পেশ করা হয়। এ জন্য আমি চাই যে আমার আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে এমতাবস্থায় পেশ করা হোক যে আমি রোজাদার (বায়হাকি)।
রাসুল সা. এ মাসে ফরজ আমল করাকেই যথেষ্ট মনে করতেন না, বরং ফরজের পাশাপাশি অনেক নফল ইবাদত তিনি করতেন। ফরজ সালাতের পাশাপাশি অনেক নফল সালাত তিনি পড়তেন। ফরজ সিয়ামের পাশাপাশি অনেক নফল সিয়াম তিনি রাখতেন। আর শাবান মাস ছিল রাসুল সা. এর নফল রোজা রাখার প্রিয় মাস। প্রায় পুরো মাস জুড়ে তিনি নফল সিয়াম পালন করতেন। এ মাসে তিনি এতোবেশি নফল সিয়াম পালন করতেন, আয়েশা রা. বলেছেন, রাসুল সা.-কে শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে অধিক নফল সিয়াম পালন করতে দেখিনি।





