মৌলভীবাজারে জামায়াত কর্মীর গরুর খামারে দুষ্কৃতকারীদের অগ্নিসংযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৪:৪০ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: শবে বরাতের রাতে নামাজ শেষে নিজের গবাদিপশুর খামারে ফিরছিলেন ওসমান গণি। পথে তার নিকট আত্মীয় তাকে মুঠোফোনে জানান, আগুনে জ্বলে যাচ্ছে তার খামার। দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন মুহুর্তেই সব ছাই হয়ে গেছে। এমন দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। আর জামায়াত কর্মী কৃষক ওসমান গণির খামারে আগুনের ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের বুদ্ধিমন্তপুর এলাকায় হাওর পাড়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার সময় ঘটে এ ঘটনা। ওসমান গণিসহ স্থানীয়দের দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে তার খামারে ৫০টি গরু, ৫০০ হাঁস ও ১০টি ভেড়া ছিল। ৭টি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে ঝলসে আহত অবস্থায় আশেপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি। বাকী ৩৩টি গরু ও ভেড়াগুলোর খোঁজ মিলেনি এখনো। হাঁসগুলোও সব পুড়ে গেছে। ধ্বংসস্তুপের মাঝে তাদের কঙ্কালগুলোই কেবল অবশিষ্ট আছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, রাতে রাস্তা থেকে দেখতে পাই খামারে আগুন জ্বলছে। বাঁশ জ্বলে ঠাস ঠাস শব্দ করছে। পরে দৌড়ে গিয়ে দেখি ওসমান গণি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। মানুষ আগুন নেভাচ্ছে।
আব্দুল লতিফ বলেন, ওসমান গণির খামারে ৫০টি গরু, ১০টি ভেড়া ও হাঁস ছিল। কয়েকটি মারা গেছে। আগুনে ঝলসে গেছে কয়েকটি গরু। এখনো কয়েকটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।খামারী ওসমান গণি বলেন, আমার সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। নামাজ শেষ করে আসার আগেই আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সন্দেহভাজনদের নাম পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ কাজ করছে। আমরা ভিকটিমকে পরামর্শ দিয়েছি অভিযোগ করতে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।





