মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় ঠিকানা মিললেও মিলবেনা নাগরিকত্ব
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৬:১৯ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বসবাসের স্বপ্ন পূরণে ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ (এমএম টু এইচ) কর্মসূচি বিদেশিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে নাগরিকত্ব পাওয়ার গুঞ্জন বা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। এ কথা আবারও পরিষ্কার করে জানালেন দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সেরি টিয়ং কিং সিং। সংসদে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এমএমটুএইচের মাধ্যমে কোনোভাবেই মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেই।
দেওয়ান রাকিয়াতে মঙ্গলবার মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, এমএমটুএইচ মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ভিজিট পাস কর্মসূচি। এর আওতায় বিদেশিরা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মালয়েশিয়ায় বসবাস করতে পারেন। তবে এই সুযোগের সঙ্গে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কোনো যোগসূত্র নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ পর্যন্ত এমএমটুএইচ কর্মসূচির আওতায় কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনো নজির নেই।
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, অনেকেই মাই পিআর (মাই পি আর) বা স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদাকে নাগরিকত্বের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। বাস্তবে মাই পিআর-ও নাগরিকত্ব নয়; এটি এমএমটুএইচের কাঠামোর মধ্যেই থাকা একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ভিজিট পাস। এর মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। মাই পিআর চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত—প্লাটিনাম: ২০ বছর, গোল্ড: ১৫ বছর, সিলভার: ৫ বছর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ১০ বছর।
দেশভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে চীনা নাগরিকরাই শীর্ষে-মোট ৩০৪টি বাড়ি। এরপর রয়েছে তাইওয়ান (৯১), সিঙ্গাপুর (৬৩), যুক্তরাষ্ট্র (৪১), যুক্তরাজ্য (৪০) এবং হংকং (৩৪)। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া (২৯), বাংলাদেশ (১৯), দক্ষিণ কোরিয়া (১৫), ইন্দোনেশিয়া ও জাপান (১৪) নাগরিকরাও এমএমটুএইচ কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় আবাসন কিনেছেন বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে দেওয়া এই স্পষ্ট বক্তব্য এমএমটুএইচ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও ভুল ধারণা দূর করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি পরিষ্কার বার্তা। মালয়েশিয়াকে ‘দ্বিতীয় ঘর’ হিসেবে বেছে নেওয়া গেলেও, নাগরিকত্বের প্রশ্নে দেশটির অবস্থান অপরিবর্তিত ও কঠোর।




