নির্বাচনি ব্যয়ে চাঙা ভোগ অর্থনীতি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৪:২৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আর মাত্র দুই দিন পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, নির্বাচন। স্কুলপড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে, দিনমজুর, গৃহিণী কিংবা চাকরিজীবী—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মুখে নির্বাচনি আলাপ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের সর্বত্র রাজনৈতিক আলোচনা যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি নির্বাচনি ব্যয়কে কেন্দ্র করে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে দেখা যাচ্ছে কিছুটা বাড়তি গতি। চা-দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার, গণপরিবহন ও ছোট ব্যবসায়—সবখানেই নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের প্রভাব স্পষ্ট। তবে এ গতির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়। অন্যদিকে, অর্থনীতির এ সাময়িক গতির ফলে নতুন কোনো কর্মসৃজন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনি ব্যয়ে স্বল্পমেয়াদে চাঙা ভোগ অর্থনীতি : এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল থেকে দুই হাজার প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২৪৮ জন স্বতন্ত্র। এই আসনগুলোতে ১২.৭৩ কোটি ভোটার তাদের ভোট অধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬.৪৬ কোটি, নারী ভোটার ৬.২৬ কোটি এবং হিজড়া ভোটার ১,১১৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের আকস্মিক মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আসনটিতে নির্বাচনের জন্য পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রচার, যাতায়াত, সভা-সমাবেশ, আপ্যায়ন ও নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পেছনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন প্রার্থী ও তাদের লোকজন। অর্থনীতিবিদরা একে ‘নির্বাচনি অর্থনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, যা স্বল্পমেয়াদে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক ব্যয় এক ধরনের সাময়িক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে। এই অর্থ খুব দ্রুত গ্রাম ও শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবাখাতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী এবং সরকারের ব্যয়ের কারণে সাময়িকভাবে অর্থনীতিতে কিছু ‘গরম’ লক্ষ্য করা যায়। তবে এই প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে নয়, মূলত নির্দিষ্ট কিছু খাতে—যেমন চা দোকান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, বেভারেজ ও খাদ্যপণ্য দৃশ্যমান। এটি মূলত একটি পুনর্বণ্টন, যেখানে প্রার্থীরা ভোট পাওয়ার আশায় নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থ সরবরাহ করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু এর সঙ্গে উৎপাদন বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সমতা নেই। মূল্য বৃদ্ধি বেশি, উৎপাদন বৃদ্ধি সীমিত। অর্থাৎ সাময়িকভাবে কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তবে এটি জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার মতো নয়। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই সময়ে সাময়িকভাবে কিছু আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে, যা সামাজিকভাবে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যয়ের কারণে কনজাম্পশন কিছুটা বাড়বে, বিশেষ করে বেভারেজ, চা, বিস্কিট, কেক এবং ট্রান্সপোর্ট খাতে। তবে ইনফ্লেশনের প্রভাবে দেশের সামগ্রিক কনজাম্পশন ইকোনমি পুরোপুরি সক্রিয় হবে না। মূলত নির্বাচনের সময় এই খাতগুলোতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সীমিত। তিনি বলেন, আমার মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়কালে মূলত ট্রান্সপোর্ট, ডেকোরেশন ও বেভারেজ বা ফুড খাতের ব্যবহার বাড়ে। তার বাইরে কনজাম্পশন ইকোনমি বেশি সক্রিয় হয় না।





