প্রথম ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত জেন-জি ভোটাররা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪১:১৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : তরুণদের বিপুল অংশগ্রহণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের ভোটের পরিবশে। ভোট ঘিরে এমন উচ্ছ্বাস নিকট অতীতে বাংলাদেশে দেখা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো ছিল। বিশেষ করে জেন-জি ভোটারা যারা এবারই জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন, তাদের মাঝে দেখা গেছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তারুণ্যের এমন ভোট উৎসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের ইতিহাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার ৪ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি। রাজধানী ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তরুণদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন। কেউ ভিড় এড়াতে সকালে উপস্থিত হয়েছেন, আবার কেউ প্রথম ভোটের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলেছেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা তরুণদের কণ্ঠে ছিল সন্তুষ্টি ও আশাবাদ।
তথ্য মতে, জেন-জি (এবহবৎধঃরড়হ ত) হলো ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রজন্মের মানুষ, যারা প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে বেড়ে উঠেছে। ডিজিটাল নেটিভ হিসেবে পরিচিত এই প্রজন্ম অত্যন্ত সচেতন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশবাদী ইস্যুতে সক্রিয় এবং কর্মক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও ফ্লেক্সিবল পরিবেশ পছন্দ করে। এই জেনারেশনের সক্রিয় অংশগ্রহণে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুথান ঘটে। যে আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক স্বৈরশাসক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
প্রথমবার ভোট দিতে এসে আবেগাপ্লুত হন কলেজ ছাত্রী সাদিয়া আফরিন। সিলেট নগরীর আল আমিন জামেয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম প্রেমের মতোই অনুভূতি হচ্ছে আজ। জীবনের এই মুহূর্তটি তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার প্রত্যাশা, এই ভোট দেশের জন্য নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা বয়ে আনবে। ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
২৮ বছর বয়সী মোফসেনা ত্বাকিয়া বলেন, ব্যালট হাতে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন—তার বিশ্বাস, একটি ভোটও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের মতামত গুরুত্ব পাবে। কলেজছাত্রী ফারহানা আক্তার জানান, শুরুর নার্ভাসনেস কাটিয়ে সুন্দর পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে। মেহেদী হাসান বলেন, পরিবর্তন চাইলে ভোট দেওয়া জরুরি—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কেন্দ্রে এসেছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান বলেন, জীবনে প্রথমবার ভোটার হয়েছি। নিজের ভোটটা ঠিকমতো দিতে পারব কি না শঙ্কা ছিল। তবে কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছি। ভোটের পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি, পরাজিত হলেও আফসোস করব না। কারণ, ভোট অত্যন্ত ফেয়ার হচ্ছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমবারের ভোটাররা নিয়মকানুন জানতে আগ্রহী ছিলেন এবং ধৈর্য সহকারে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





