নির্বাচনি সফলতার শীর্ষে সাবেক শিবির নেতারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৯:২৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সফলতা সাধারণত উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই রেওয়াজ ভেঙে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বড় দলগুলোর দুর্গে হানা দিয়েছে দলটি। এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে গত এক দশকে দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা নেতারাই সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন।
গাজীপুর-৪: বিএনপির একমাত্র দুর্গ দখল : গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ১৯৯১ সালে একবার বিএনপি জয়ী হলেও পরবর্তী পাঁচটি নির্বাচনেই এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছিল। তবে এবারের নির্বাচনে এই দুই দলের দীর্ঘদিনের প্রভাব ক্ষুণ্ন করে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি ছাত্রশিবিরের ২০২০ সালের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই আসনে বিএনপির রিয়াজুল হান্নানকে ৯ হাজার ২৪৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। সালাউদ্দিন আইয়ুবী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪০৭ ভোট, আর রিয়াজুল হান্নান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ১৬০ ভোট।
পটুয়াখালী-২: বিএনপির ঘাঁটি ছিনিয়ে নিলেন ড. মাসুদ : পটুয়াখালী-২ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জয়ী হয়েছিল বিএনপি। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে বিএনপি শহিদুল আলম তালুকদারের ওপর আস্থা রাখলেও সেখানে জয় পেয়েছেন সাবেক শিবির সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এলাকায় তার স্ত্রীর মাধ্যমে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে আলোচনায় রেখেছিল। ড. মাসুদ ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট।
শেরপুর-১: আওয়ামী লীগের দুর্গে জামায়াতের জয় : শেরপুর-১ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের পর থেকে এখানে বিএনপি জয়ী হতে পারেনি। তবে এই আসনে জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে লড়া ২০২৩ সালের সদ্য বিদায়ী শিবির সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম জয় ছিনিয়ে এনেছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮০৮ ভোট। মূলত ঢাকা মহানগরী জামায়াতের এই নেতাকে নির্বাচনের জন্য শেরপুরে পাঠানো হয়েছিল।
বাগেরহাট-২: তরুণ নেতার চমক : আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকা বাগেরহাট-২ আসনে এবার জয় পেয়েছেন জামায়াতের তরুণ নেতা শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ। তিনি ২০০২ সালে ছাত্রজীবন থেকেই শিবিরের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০০৮-০৯ সালে জেলা শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪০৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৬: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মিলন : ময়মনসিংহ-৬ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন। তিনি মোট ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা (ফুটবল প্রতীক), যিনি পেয়েছেন ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট। এই আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ৫১ হাজার ২৩৪ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়েছেন।
জয়পুরহাট-১ ও নওগাঁ-২: ধানের শীষকে হটিয়ে জয় : বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি জয়পুরহাট-১ আসনে জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির মাসুদ রানা প্রধানকে ৯ হাজার ৪১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) আসনে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত মো. এনামুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জোহা খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।
কুষ্টিয়া-৩: বিতর্কের মুখেও আমির হামজার বড় জয় : বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া-৩ আসনে হানা দিয়ে জয় পেয়েছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সময় বিতর্ক ও হাস্যরসের জন্ম দিলেও নির্বাচনের মাঠে তার জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট বেশি পেয়েছেন।





