দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৪:৪০ অপরাহ্ন
১৫ ফেব্রুয়ারী মধ্যে সরকার গঠন
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে । নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী দলটি সংসদের দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। দলটি এবারই প্রথম বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিলো এবং তিনি নিজেও এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
তিনি ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে বিএনপির আগের ঘোষণা অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই ভারত, পাাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানের কাছ থেকে অভিনন্দন পেতে শুরু করেছেন। ওদিকে, জামায়াতও তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করেছে। দলটির আমীর ডা: শফিুকর রহমানও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।
দলভিত্তিক হিসেবে-বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি আসনে, এনসিপি ৬টি আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। দুইটি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আসন দুটি হলো-চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। এদিকে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে। বিএনপি সব দলকে নিয়ে পার্লামেন্টে যাবে।
দীর্ঘ সতের বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেছিলেন এবং ৩০শে ডিসেম্বর তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এখন তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হলো এবং এর ফলে ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার প্রায় দুই দশক পর দলটি আবার ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে ছিল । সেই সরকারের অন্যতম অংশীদার এবং দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সাথেই এবার নির্বাচনী লড়াই হয়েছে বিএনপির।
নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশের পরই তাদের শপথ ও পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা।
ফল নিয়ে দুই দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে করা পোস্টে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন জামায়াতের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় দলটির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো মনে হয়েছে জামায়াতের। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে দাবি করেছে দলটি।
সেই সাথে জোটের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের।
দলের গুলশান কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের যে আস্থা, বিশ্বাস ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিটি মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন।





