সিলেট-৫ এ মুফতি মাওলানা আবুল হাসান-এর ব্যতিক্রমী জয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:০১:০৯ অপরাহ্ন

এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাটুজকিগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবক মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান। দীর্ঘদিন মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত, শিক্ষা ও সমাজসংস্কারের কাজে নিয়োজিত থাকা এই আলেমের জাতীয় সংসদে পদার্পণ স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধর্মীয় অঙ্গন থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ ফোরামে তাঁর এই যাত্রা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনে বিজয় অর্জনের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে সিলেট-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণ, দলীয় ও জোটের শরিক দলসমূহের নেতা-কর্মী ও সমর্থক, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা অটুট রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হয়েও আমি যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী পাঁচ বছর সিলেট-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রাখবো।’
নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর লক্ষ্যই ছিল এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণ। ভবিষ্যতে সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁদের সহযোগিতা পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিজয়ের আনন্দে সংযম বজায় রাখা এবং বিভেদ নয়ত্মঐক্যের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
জীবনের প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেই বিজয়ী হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা মুফতি আবুল হাসানের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্তে জানা যায়, তিনি ১৫ অক্টোবর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাজরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই দ্বীনি শিক্ষায় হাতেখড়ি নেওয়ার পর কৃতিত্বের সঙ্গে হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতওয়া বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর চট্টগ্রামের জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতওয়া ও ইসলামী গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। শিক্ষা, দাওয়াত, তাসাউফ ও সমাজসেবায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধাভাজন আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
মসজিদের মিম্বর থেকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় জাগরণে আজীবন কাজ করে আসা এই আলেমের পার্লামেন্ট ভবনে পদচারণা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশা ও প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। অনেকের মতে, তাঁর মতো একজন চিন্তাশীল, সংযত ও নীতিনিষ্ঠ আলেমের সংসদে উপস্থিতি আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।





