বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬:২৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ছুটির আমেজ থাকায় বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি না আসায় দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে সামনে রমজান মাস থাকায় নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন সরকারের কাছে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা তাদের।
শনিবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি কই মাছ ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের রুই ৪০০ টাকা, বাইম ৮০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০-২২০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩২০ টাকা, টাকি ৩০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নির্বাচনের সময় দুদিন যান চলাচল কম থাকায় মাছ ও মুরগির সরবরাহে প্রভাব পড়ে। ফলে দাম এখনও কিছুটা চড়া। অনেক বিক্রেতা গ্রামে যাওয়ায় কিছু দোকান বন্ধ রয়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও তুলনামূলক কম। বাজারে সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা, দেশি ক্রস সোনালি ৩৫০-৩৭০ টাকা, ব্রয়লার ২২০ টাকা এবং লেয়ার ৩৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। ডিমের হালি ৪০ টাকা।
সবজির মধ্যে কাচা মরিচ ২০০-২২০ টাকা, লাউ সাইজভেদে ৬০-১০০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা কেজি এবং শিম ৬০, ৯০ ও ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু ২০ টাকা কেজি। বেগুন ৬০-১০০ টাকা, ধুন্দল ৮০-১০০ টাকা। মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা কেজি, কচুরমুখি ৮০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা ও পাতা কপি ৪০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং আমদানি করা বড় রসুন ২০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, যোগাযোগ সমস্যার কারণে পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচনের অজুহাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির দাবি উঠেছে।
এদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে আদা কেজি প্রতি ৬০-৭০ টাকা বেড়ে ২২০-২৫০ টাকা, চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলা ৯০-১০০ টাকা এবং মসুর ডাল ৯০-১২০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৪০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।
সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কম। কেউ দোকান খুললেও বিক্রি নেই বললেই চলে। বিক্রেতাদের আশা, দু-এক দিনের মধ্যে মানুষ ফিরলে বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরবে। যদিও শনিবার থেকে শহরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। রোববার অফিস আদালত খুলবে তাই বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেচাকেনাও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা।




