ভোটের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮:৫২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তিনদিনের সরকারি ছুটি কাটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে ধীরে ধীরে নগরীতে ফিরতে শুরু করেছেন। রোববার থেকে খুলছে অফিস আদালত। তাই সরকারি ছুটি চলাকালীন মহাসড়ক ও আন্তঃসড়কগুলো কিছুটা শিথিল থাকলেও, ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অফিস আদালত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ঘরেফেরা মানুষের সিলেট আগমন লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে কুমারগাও বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃজেলা বাস একে একে যাত্রী বোঝাই হয়ে সিলেট ফিরছে। মোটামুটি সব বাস নির্ধারিত সময়ের আশেপাশে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে কদমতলী বাস টার্মিনালেও। টার্মিনালে ফিরতি দুরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাসগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীর চাপ।
সুনামগঞ্জ থেকে আগত যাত্রী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন রাতে বাড়ি ফিরেছিলাম। ভোটও দিয়েছি, ছুটিও কাটালাম। রোববার অফিস শুরু, তাই আবার কর্মস্থলে ফিরছি।
হবিগঞ্জ থেকে আগত সজীব বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষে সিলেট ফিরলাম। এবারের ছুটিটা ছিল ব্যতিক্রম। এক সাথে ভোট দেয়া ও ছুটি কাটানোর সুযোগ খুব একটা হয়না।
মৌলভীবাজার থেকে আগত রাফি হোসেন বলেন, যাওয়ার দিন কিছু ভোগান্তি ছিল, কিন্তু আসতে পেরেছি সহজেই। সার্বিকভাবে এই ছুটি যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল।পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেটমুখী প্রত্যেকটা বাসই যাত্রী বোঝাই হয়ে ফিরছে, তবে তুলনামূলকভাবে সিলেট ছাড়া বাসগুলোর যাত্রীর সংখ্যা কম। সিলেটের অন্যান্য টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডগুলোতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর গ্রামের মাটি ছোঁয়া মানুষের মধ্যে সিলেট ফিরার সময় বেশ উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি গ্রামের পরিবেশে ছুটির দিনগুলো উপভোগ করেছেন।
পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ছুটি উপলক্ষে সিলেটমুখী বাস চলাচল পূর্বের তুলনায় স্বাভাবিক ছিল। যাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশার মানুষ রয়েছেন। তাঁরা জানান, নির্বাচনের পর গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়াও ছিল তাদের দায়িত্ব এবং এখন অফিস ও ব্যবসা শুরু করতে নগরে ফিরছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এই ঘরেফেরা সিলেটে আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে। ছুটি শেষে নগরে ফিরে আসা মানুষজনের মধ্যে বেশিরভাগই অফিস, আদালত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোববার সকাল থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।
যাত্রীদের মতামত অনুযায়ী, এবারের সরকারি ছুটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে ছিল। এখন জীবিকার তাগিদে তারা নগরে ফিরে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোনিবেশ করছেন। এভাবে ভোটের আনন্দ ও গ্রামে ছুটি কাটানোর অভিজ্ঞতার পর নগরে ফেরার এই ধারা সিলেট নগরীকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও সহজ যাত্রার জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষও সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি শুরুর দিনে সিলেট ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে যাত্রী ভীড় ছিলো। শনিবার সিলেট ফেরা বাসগুলোতে যাত্রীদের ভীড় বেড়েছে। তবে সিলেট ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাসগুলোতে যাত্রীসংখ্যা খুব কম দেখা গেছে। তবে কম যাত্রী নিয়েও বাসগুলো যথাসময়ে সিলেট ছেড়ে যাচ্ছে।





