নতুর সরকার গঠনের তোড়জোড়, এমপি-মন্ত্রীদের শপথ মঙ্গলবার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২:৫৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ভোট গ্রহণ শেষ হবার পরদিনই নির্বাচিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সংসদের যাত্রা। এরপরেই দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার। কিন্তু কবে নির্বাচিতরা শপথ নেবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। এই বিলম্বের কারণ হিসেবে সামনে আসছে আইনি বিভিন্ন জটিলতার বিষয়টি।
নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সংবিধানে বেশ কিছু নিয়মের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।তবে বিভিন্ন আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের শপথ পাঠের পর মন্ত্রিসভার শপথ হবে। কিন্তু সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদেরকে শপথ পাঠ করাবেন, তা পরিষ্কার নয়।সংবিধানের বাইরে কোনো প্রক্রিয়ায় শপথ পাঠ বা সরকার গঠন হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এ কারণেই আইনি জটিলতা এড়াতে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেই হিসাবে আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন সিইসি। আর সেদিন বিকালে নতুন সরকারের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। বিএনপির দুইজন শীর্ষ নেতা বিবিসিকে এই আভাস দিয়েছেন।
এদিকে, আলোচনা শুরু হয়েছে মন্ত্রীসভা নিয়ে। কারা থাকছেন, কারা থাকছেন না কৌতুহলের শেষ নেই। নতুন-পুরাতনে মিলিয়ে কেমন হতে পারে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি তা নিয়ে রয়েছে নানান গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, দলের সিনিয়র নেতা ছাড়াও সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে এবার।দলটির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। তবে, যদি ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি না হন তবে এর তালিকায় রয়েছেন ড. আব্দুল মঈন খান ও ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার।
মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন, স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। এদিকে, আইনমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় এগিয়ে আছেন সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল ও ঝিনাইদন থেকে নির্বাচিত আসাদুজ্জামান।
শোনা যাচ্ছে, এর মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সিলেটের হুমায়ুন কবীর। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা। এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, আরিফুল হক চৌধুরী, মো. মোশাররফ হোসেন ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন সোম-মঙ্গলবারের মধ্যেই শপথ পাঠ করানো হবে।
শফিকুল আলম বলেন, চিফ অ্যাডভাইজার কালকেও কাজ করেছেন, আজকেও চিফ অ্যাডভাইজার কাজ করছেন এবং পুরো টিম কাজ করছে, ক্যাবিনেট কাজ করছে স্মুথ ট্রানজিশনের জন্য।এদিকে, নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, এ আলোচনা চলার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে ‘প্রধান বিচারপতি’ বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতিই তাদের শপথ পড়াবেন।
‘যেদিন এমপি, সেদিনই মন্ত্রী’ :
আইনপ্রণেতাদের শপথের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বলেন, শপথের দিনই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোতে পারে। তিনি বলেন, যেদিন সকালে এমপি, সেদিনই বিকালে সরকার এমন সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।যদিও সংসদ সদস্যদের শপথের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা একই দিনে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
সংসদ ভবন প্রস্তুত :
শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ শনিবার বলেন, সংসদ রেডি। সব অফিস রেডি। এখন শেষ মুহূর্তের ক্লিনিং আর মপিং চলছে। শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এমপি হোস্টেলসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।




