দুশ্চিন্তায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫২:১৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একে একে পদত্যাগ করেছিলেন ৪৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এক রকম অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার মতো ঘটনা এবং কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান উপাচার্যদের অনেকেই তাদের মেয়াদের স্থায়িত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বেশির ভাগ উপাচার্যই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
গত দেড় বছরে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে সাময়িকভাবে। আর বাকি ৫২ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মেয়াদ চার বছর। তবে সব উপাচার্যের নিয়োগপত্রেই উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
দায়িত্বের মেয়াদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেক উপাচার্য। তারা মনে করছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিতে পারেন। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, যা কিছুই বলা হোক না কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি অরাজনৈতিক নয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশকিছু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যদি মনে হয় সামনের দিনে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তবে নিয়োগের মেয়াদ থাকলেও আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল। চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলাই আমাদের পরিকল্পনা। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান পুনরুদ্ধার করা, মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষক নিয়োগ দেয়া। শিক্ষাঙ্গনকে এমনভাবে গড়ে তোলা হোক যেখানে একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্ত চিন্তার পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে। এ লক্ষ্য পূরণেই আমাদের পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ। কারা ক্ষমতায় আছে বা নেই, এসব রাজনৈতিক প্রশ্নে আমরা যেতে চাই না।
নির্বাচিত সরকার চাইলে দায়িত্ব পালনে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা খুবই সাপোর্টিভ। রাজনৈতিক কোনো প্রভাবই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। নির্বাচিত সরকারের সহায়তা পেলে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করব। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি ভালো অবস্থানে রেখে যেতে চাই।
অন্যদিকে নির্বাচনের পরদিন গত শুক্রবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার বাসভবনের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
তবে কোনো রাজনৈতিক কারণে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কাম্য নয় বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, উপাচার্য বা শিক্ষার প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় রদবদলের পুরনো সংস্কৃতি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তা কাম্য নয়। আমরা আশা করব, নতুন সরকার সেটি করবে না। তবে সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে রদবদল যদি প্রয়োজন হয় সেটি আলাদা বিষয়। তবে ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় রদবদল প্রত্যাশিত নয়। এছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসন্ধান চলতে পারে।





