জামায়াতের সভায় বক্তব্য দেওয়ায় চাকুরি গেলো ইমামের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০২:৫৩ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ায় হাফিজ মাসুম আহমদ নামে এক ইমামকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। শনিবার কোন নোটিশ ছাড়াই এশার নামাজের পর তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেন মসজিদে মুতাওয়াল্লী ফয়জুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাফিজ মাসুম আহমদ বলেন, টুকেরবাজারে একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ায় তাকে অগ্রীম নোটিশ ছাড়া চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৬ সাল থেকে উপজেলার তৈমুর নগর ভাঙ্গারপাড় ক্রাশারমিল জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন হাফিজ মাসুম আহমদ। এরপর থেকে ইমামতির পাশাপাশি সেখানে রমজানের তারাবিও পড়াতেন তিনি। বরাবরের মতো এবছরও রমজানের তারাবি পড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু কোন ধরনের অগ্রীম নোটিশ ছাড়া রমজানের ৪দিন আগে তাকে মসজিদ ছাড়তে হয়েছে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী শেষ জনসভায় বক্তব্য দেন হাফিজ মাসুম আহমদ। খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হওয়ায় সেই জনসভায় তিনি ছিলেন বিশেষ অতিথি। এই জনসভার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানান হাফিজ মাসুম আহমদ।
হাফিজ মাসুম আহমদ জানান, গত বিশ বছর থেকে আমি এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো কারো সাথে আমার সমস্যা হয়নি। কয়দিন আগে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ায় আমাকে মসজিদের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার এশার নামাজের পর মসজিদের মুতাওয়াল্লি আমাকে ডেকে বলেন, ‘আপনি আগামীকাল থেকে আর মসজিদে আসবেন না’।
তৈমুর নগর ভাঙ্গারপাড় ক্রাশারমিল জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা সকলে মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোন নোটিশ ছাড়া তাৎক্ষণিক কেন তাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন পঞ্চায়েতের বিষয় এটি আমি একা সিদ্ধান্ত নেইনি। রাজনৈতিক সভায় বক্তব্যের জেরে কি ইমামকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন এধরনের কোন কিছু নাই।





